এক সপ্তাহের ‘ভঙ্গুর’ অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী এবং রাশিয়া আলেপ্পোতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার পর সোমবার আলেপ্পো এবং তার আশে-পাশে চালানো বিমান হামলাইয় অন্তত ৩২ জন বেসামরিক সিরীয় নিহত হয়েছেন।
আলেপ্পোর কাছে ত্রাণবহরে বিমান হামলায় ত্রাণ বহরের ৩১টির মধ্যে ১৮টি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, উরম আল-কুবরা এলাকায় চালানো এ হামলায় ত্রাণকর্মী, ট্রাক চালকসহ অন্তত ১২ জন হামলায় নিহত হয়েছেন। সিরিয়ান রেড ক্রিসেন্টের এক কর্মকর্তাও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিরিয়ার রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ত্রাণবহরটি নিয়মিত আলেপ্পো থেকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত গ্রামীণ এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ করছিল।
সিরিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত স্তেফান ডি মিস্তুরা জানান, ‘আমাদের ত্রাণবহরে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। বিচ্ছিন্ন নাগরিকদের জন্য ত্রাণ পৌঁছে দিতে এ ত্রাণ বহর অনুমতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়েছিল।’
এক প্রত্যক্ষদর্শী ফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ত্রাণবহরে অন্তত ৫টি মিসাইল আঘাত হানে। উরম আল-কুবরা এলাকায় রেড ক্রিসেন্টের পার্কিংয়ে বহরটি অবস্থান করছিল।
সাত দিন আগে শুরু হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তির অন্যতম ছিলো অবরুদ্ধ আলেপ্পোতে ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করা। কিন্তু সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীরা একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে।
অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলেপ্পো ও কয়েকটি শহরে বিমান হামলা চালায় সিরীয় ও রুশ বাহিনী। সিরিয়ার দাবি, বিদ্রোহীরা অস্ত্রবিরতি চুক্তির কোনও ধারাই মানেনি। বিদ্রোহীরাও আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে।
অস্ত্রবিরতি চলাকালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৬২ সিরীয় সেনা নিহতের ঘটনায় চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়েছিল। এ ঘটনার পর রুশ-মার্কিন সম্পর্কে উত্তেজনা শুরু হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকও আহ্বান করা হয়েছিল।
সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে প্রায় চার লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘরহারা হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
সূত্র: আল-জাজিরা।
/এসএ/








