পাকিস্তান থেকে ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে এবার জম্মু-কাশ্মিরের সীমান্ত অঞ্চলে কথিত এনকাউন্টারে ১০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে দিল্লি। শনিবার গভীর রাতে উরি শহরের সেনা ব্রিগেড সদরে হামলা চালিয়ে ১৭ সেনাকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে চার সন্ত্রাসীও প্রাণ হারান। এর একদিনের মাথায় আরও ১০ জঙ্গিকে হত্যার কথা জানালো ভারত। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস খবরটি নিশ্চিত করেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ১৫ জঙ্গির একটি দল লচ্ছিপোড়া সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে ১০জন নিহত হয়েছেন। আরেক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ জানিয়েছে, অভিযানের সময় প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনও অনেক জঙ্গি আত্মগোপন করে আছে।
উল্লেখ্য, ১৮ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ভারি অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক কাশ্মিরের উরিতে লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে সামরিক বাহিনীর একটি প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলায় চালায়। ওই হামলায় ১৭ সেনা সদস্য ও ৪ হামলাকারী নিহত হলেও এখন পর্যন্ত কোনও সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই হামলার দায় স্বীকার করা হয়নি।
তবে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জয়েশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে চলতি বছরের প্রথমদিকে পাঞ্জাবের পাঠানপকোটে ভারতের বিমানঘাঁটিতে হামলার জন্যও ওই সশস্ত্র সংগঠনটিকে দায়ী করেছিল ভারত। জঙ্গি এ সংগঠন পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং পাকিস্তানে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বলে ভারত দাবি করে আসছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ সে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের সেনা সদর দপ্তরে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে আসছে নভেম্বরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সার্ক সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
/বিএ/








