ভূমধ্যসাগরে বুধবার মিসরের উপকূলে ডুবে যাওয়া শরণার্থীবাহী নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে প্রাথমিকভাবে ৪২টি মরদেহ উদ্ধারের কথা বলা হয়েছিল। শুক্রবার উদ্ধারকর্মীরা নতুন করে আরও মৃতদেহ উদ্ধারের পর নিহতের এ সংখ্যা জানানো হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
মিসরের সেনাবাহিনী জানিয়েছে তারা ১৬৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃতরা জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৪৫০ জনেরও বেশি আরোহী ছিলেন।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন জানিয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১১১ জন মিসরের নাগরিক। এছাড়া ২৬ জন সুদান, ১৩ জন ইরিত্রিয়া, একজন সিরিয়া এবং একজন ইথিওপিয়ার নাগরিক।
মিসরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এ নৌকাডুবির ঘটনায় সন্দেহভাজন চার মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে।
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ বুধবার মিসরের বন্দরনগরী রোসেটা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ওই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
উদ্ধার হওয়া একজন আশ্রয়প্রার্থী বলেন, বেশি করে আশ্রয়প্রার্থী পাওয়ার জন্য নৌকাটি পাঁচ দিন উপকূলে ভিড়িয়ে রাখা হয়েছিল। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ নেওয়া হয়েছিল এতে। নৌকা-সংশ্লিষ্ট লোকজন, লাইফ জ্যাকেটও সবাইকে দেয়নি। লাইফ জ্যাকেটের জন্য আলাদা করে অর্থ দাবি করা হয়েছিল।
নৌকাডুবির পর আশ্রয়প্রার্থীদের উদ্ধারে সবার আগে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জেলেরা। মাছ ধরার নৌকা নিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন তাঁরা। আবদেল রহমান আল মোহাম্মদী নামের একজন জেলে বলেন, শুরুতে কেউই উদ্ধার করতে আসেনি। স্থানীয় জেলেরাই মাছ ধরার নৌকা নিয়ে প্রথমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ইউরোপমুখী আশ্রয়প্রার্থীর ঢল এখন মিসরকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সীমান্ত সংস্থার এমন আশঙ্কার মধ্যে মিসরের উপকূলে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটল।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইউরোপে আশ্রয় নেওয়ার জন্য শুধু ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
অনেক দিন ধরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে ইউরোপমুখী আশ্রয়প্রার্থীর ঢল চলছে। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়ার বিশৃঙ্খল ও দারিদ্র্যপীড়িত কয়েকটি দেশের মানুষ।
/এমপি/








