জম্মু কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (লাইন অব কন্ট্রোল) পেরিয়ে ভারতীয় সেনাদের চালানো ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-কে বিজেপি নেতা অমিত শাহ নতুন ভারতের উত্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বলে উল্লেখ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। অমিত শাহের মতে, এ অভিযানের মধ্য দিয়ে সীমান্ত এলাকার সন্ত্রাসীদের 'উপযুক্ত জবাব' দিয়েছে ভারত। বুধবার মধ্যরাতে লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাদের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ পরিচালনার খবর প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
বিজেপি সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটির কারণে আগামী বছর অনুষ্ঠেয় উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড এবং পাঞ্জাবের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়বে বলে বিজেপির নেতাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন। নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে তাদের মাঝে। উরি হামলার ঘটনার বদলা না নেওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির বদল ঘটবে না বলেও বিশ্বাস করেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ তাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিজেপি নেতাদের সেই উচ্ছ্বাস আর আশাবাদকে প্রতিফলিত করে এক বিবৃতিতে দলের সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়ে জঙ্গিদের 'উপযুক্ত জবাব দেওয়ার' মধ্য দিয়ে 'নতুন ভারতের' উত্থানের ইঙ্গিত মিলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, 'সেনাবাহিনী সফলভাবে এ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে এবং নিজেদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সন্ত্রাসীদের নাশ করেছে। এটা আমাদের সেনাবাহিনীর সাহসিকতা, সক্ষমতা এবং দেশপ্রেমের প্রমাণ। সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ যুদ্ধে এ প্রথমবারের মতো জঙ্গিদের উৎপত্তির কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে।’
বিবৃতি দেওয়া ছাড়াও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে বেশ কয়েকটি টুইট করেছেন অমিত শাহ। এসব টুইটে মোদির প্রশংসা করে তিনি লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত এখন নিরাপদ বোধ করছে।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বুধবার রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সেনারা সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে। ওই অভিযানে ৯ পাকিস্তানি সেনা ও ৩৫ থেকে ৪০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক দিয়ে এমন সামরিক অভিযানকে বোঝানো হয়, যে অভিযানে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বাইরে আশপাশের অবকাঠামো কিংবা জনসাধারণ হামলার শিকার হয় না বলে দাবি করা হয়। ঘটনার পর থেকে দুই সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে পাকিস্তান দাবি করে আসছে এটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না, সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। পাকিস্তান ভূখণ্ডে এ ধরনের অভিযান চালানো হলে একই কায়দায় এর জবাব দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/এফইউ/








