ফিলিপাইনের মাদকবিরোধী অভিযানকে হলোকাস্টের (ইহুদি নিধন) সঙ্গে তুলনা করায় দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইহুদি ধর্মাবলম্বীরা। ইহুদি নেতারা বলছেন, তার মন্তব্য অমানবিক ও ব্যাপক অপরাধযোগ্য। তিনি নাৎসীদের হাতে নিহতদের যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন তাও ভুল। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে ফিলিপাইনে নিজ শহর দাভাও-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজেকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করেন দেশটির বন্দুকভক্ত প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুয়ার্তে। তিনি বলেন, ‘‘জার্মানদের হিটলার ছিলেন, আর ফিলিপাইনের (নিজের দিকে আঙুল তাক করেন)। হিটলার ৩০ লাখ ইহুদিকে হত্যা করেছিলেন, আমি হত্যা করতে চাই ৩০ লাখ মাদকাসক্তকে।’
দুয়ার্তে বলেন, সমালোচকরা তাকে হিটলারের কাজিন বলেও সম্বোধন করে থাকে।
ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিশ্ব ইহুদি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড এস লাওডার। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট দুয়ার্তে যা বলেছেন তা কেবল অমানবিক নয়, এটা মানুষের জীবনের প্রতি চরম অসম্মান। বিশেষ করে একটি মহান দেশের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতার কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য সত্যিই হৃদয়বিদারক।
এ ধরনের বক্তব্যের জন্য দুয়ার্তেকে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানান বিশ্ব ইহুদি কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড এস লাওডার।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইহুদি সংগঠন অ্যান্টি ডিফেমেশন লিগ বলেছে, তার বক্তব্য অমানবিক ও ব্যাপকভিত্তিক অপরাধের সমতুল্য।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইমন ওয়েজেনথাল সেন্টারের রাব্বি আব্রাহাম বলেন, বাগাড়ম্বর করার জন্য হলোকাস্টের শিকারদের পরিবারের কাছে দুয়ার্তেকে ক্ষমা চাইতে হবে।
চলতি বছরের জুনে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন রদ্রিগো দুয়ার্তে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মাদক ব্যবহারকারী ও এর ডিলারদের ওপর তিনি রক্তক্ষয়ী অভিযান পরিচালনা করছেন। এ অভিযানে এরইমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকাসক্তকে হত্যা করা হয়েছে। এর এক তৃতীয়াংশ করেছে দেশটির পুলিশ বাহিনী। বাকীদের হত্যা করা হয়েছে সেনা অভিযানে।
দুয়ার্তে সাধারণ মানুষকেও অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন যেন তারা মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকে দেখলেই তাকে হত্যা করে। মাদকাসক্তদের খুনের জন্য তিনি পুলিশ বাহিনীকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত করবেন না।
/এমপি/








