পাকিস্তানে আটক ‘আফগান মোনালিসা’ নামে খ্যাত আফগানিস্তানের শরণার্থী শরবত বিবিকে জামিনে মুক্তি দেয়া হবে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী নিসার আলী খান বিবিসিকে বলেছেন, নারী হওয়ায় শরবত বিবির মামলা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হবে। পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) যত দ্রুত সম্ভব তার জামিনের ব্যবস্থা করবে।
জাল পরিচয়পত্র নিয়ে পাকিস্তানে বসবাসের দায়ে বুধবার আটকের পরই শরবত বিবি বিশ্বব্যাপী খবরের শিরোনামে চলে আসেন। তবে শরবত বিবিকে জামিন বা পাকিস্তানে থাকার অস্থায়ী ভিসা দেওয়া নিয়ে আইনি জটিলতার কথাও তুলে ধরেন চৌধুরী নিসার আলী খান। তিনি বলেন, এমনটি হলে জাল পরিচয়পত্র প্রদানের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করতে হবে। এ কাজটি যারা করেছেন তারা সত্যিকার অর্থেই অপরাধী। তাদেরকে কোনও অবস্থাতেই ছাড় দেয়া হবে না।
এর আগে শরবত বিবিকে কোনও সহায়তা না করার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির মুখপাত্র দুনিয়া আসলাম পাকিস্তানের একটি দৈনিককে বলেন, শরবত বিবি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন আফগান শরণার্থী। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রধারী শরণার্থীদেরই কেবল ইউএনএইচসিআর সহায়তা করে।
এক সময় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকীতে প্রচ্ছদকন্যা হয়েছিলেন শরবত বিবি। পরিণত হয়েছিলেন আফগান যুদ্ধের এক প্রতীকে। ধূসর সবুজ চোখের এখনকার এই নারী আফগান যুদ্ধের সময় ছিলেন বালিকা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রচ্ছদে স্থান পেয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আফগান যুদ্ধের মোনালিসা। সেই ‘আফগান বালিকা’ শরবত বিবিকে গত বুধবার গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। পরিচয়পত্রে তথ্য জালিয়াতির দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
শরবত বিবির কাছে একইসঙ্গে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দ্বৈত নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত দফতর ‘এনএডিআরএ’ শরবত বিবি ও তার দুই সন্তানের পরিচয়পত্র বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। তথ্য জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত একজন সরকারি কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শরবত বিবি’র সন্তানদের নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সরকারি ফর্মের বিস্তারিত তথ্যে বলা হয়েছিল, তিনি দুই পুত্র সন্তানের মা। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, শরবত বিবি দুই কন্যা এবং দুই বছরের এক পুত্র সন্তানের জননী। স্থানীয়রা জানান, তার পুত্র হিসেবে যে দুইজনকে দেখানো হয়েছে তারা আদতে তার পুত্র নয়।
এক সাধারণ আফগান শরণার্থী ছিলেন এই আফগান নারী। সোভিয়েত আমলে দেশ ছেড়ে পাকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালের ঘটনা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিনের চিত্রগ্রাহক স্টিভ ম্যাকারি পেশোয়ারের আফগান শরণার্থী শিবিরে ধূসর নীল চোখের এক আফগান বালিকার ছবি তেলেন। ১৯৮৫ সালে সেই ছবি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক তাদের প্রচ্ছদে সেই ছবি প্রকাশ করে। ১২ বছরের অপরিচিত শরবত বিবিকে ঘিরে আলোড়ন ছড়ায়। আন্তর্জাতিক শরণার্থীদের আইকন হিসেবে চিহ্নিত হন শরবত বিবি।
শরবত বিবির সঙ্গে তখন লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির মোনালিসারও তুলনা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শরবত বিবির জীবন আলেখ্য নিয়ে ‘আফগান যুদ্ধের মোনালিসা’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিল ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক। সূত্র: ডন।
/এমপি/








