ইরাকের বিশেষ বাহিনী মসুলে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার ইরাকি এক জেনারেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত দুই বছরের মধ্যে এই প্রথমবার ইরাকি বাহিনী মসুল নগরীতে পা রাখতে পেরেছে। এরপর দীর্ঘমেয়াদী ও ধীরগতির অভিযান চালানো হবে বলে জানান বিশেষ বাহিনীর মেজর জেনারেল সামি আল আরিদি।
তিনি জানান, প্রথমে মসুল নগরীর গগজালি এলাকায় প্রবেশ করে বিশেষ বাহিনী, এরপর আরও ৮০০ মিটার এগিয়ে বিকেলের মধ্যে কারামা জেলায় পৌঁছায় সেনারা।
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ বাহিনী ঢুকে পড়ার পর দায়েশরা উল্টো আক্রমণ চালায়, বোমা মেরে কংক্রিটের দেয়াল ধসিয়ে দিয়ে বাহিনীর প্রবেশ পথ রুদ্ধ করতে চেষ্টা করে।’
ইরাকে আইএসের সর্বশেষ দুর্গ হচ্ছে মসুল। এই নগরী থেকেই ২০১৪ সালে ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয় আইএস, যা সিরিয়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে মসুল হারাতে হলে তা হবে আইএসের জন্য বড় ধরনের পরাজয়। তবে নগরের কেন্দ্র সিটি সেন্টার থেকে এখনও ১০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ইরাকি বাহিনী।
মঙ্গলবারের যুদ্ধ শুরু হয় ইরাকি কামানের গোলা বর্ষণ দিয়ে। আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে ট্যাংক থেকে মেশিন গান দিয়ে গুলি বর্ষণ করে ইরাকি বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী বিমান হামলা করে এই যুদ্ধে ইরাকি বাহিনীকে সহায়তা দেয়।
মুখপাত্র কর্নেল জন ডোরিয়ান বলেন, ইরাকি বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই বিমান হামলা চালিয়েছে যৌথবাহিনী। তারা পালাতে পারবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বেশি সংখ্যক যোদ্ধা একত্র হতে পারছে না, আমরা সহজেই তাদের হত্যা করতে পারবো।’
মসুলের সবচেয়ে নিকটবর্তী গ্রাম বাজোয়ার ভবন থেকে ওঠা ধোঁয়া গগজালি থেকেও দেখা যাচ্ছিলো। নিজেদের অবস্থান গোপন করতে বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া তৈরি করে আইএস।
উল্লেখ্য, ১৭ অক্টোবর ২০১৬ সোমবার ভোরে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। ওইদিনই আইএস জঙ্গিদের দখল থেকে ইরাকের মসুল শহর পুনরুদ্ধারের লড়াই শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে ইরাকের সেনাবাহিনী ও দেশটির কুর্দিপন্থী গেরিলারা এই লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
/ইউআর/








