হিলারি সংক্রান্ত ইমেইল ফাঁসের সঙ্গে রুশ হ্যাকারদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে কিছু ‘ভুয়া দলিল’ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণায় ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য হিলারিকে লেখা একটি চিঠিসহ কিছু ভুয়া দলিল শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। এফবিআই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কর্মকর্তাদের কাছে অন্যান্য ইমেইল ও দলিলের সঙ্গে সন্দেহভাজন দলিলগুলোর কপিও চেয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রুশ সংশ্লিষ্টতার আলামত খুঁজবেন তারা।
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবরটি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ওই ‘ভুয়া চিঠি’ ছাড়াও বহু ভুয়া দলিল তদন্তের জন্য এফবিআই এবং মার্কিন বিচার বিভাগের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, হিলারি সংক্রান্ত ইমেইল ফাঁসের নেপথ্যে রাশিয়ার হাত রয়েছে। ইমেইল ফাঁসের সঙ্গে রুশ হ্যাকারদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই এফবিআই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কর্মকর্তাদের কাছে অন্যান্য ইমেইল ও দলিলের সঙ্গে সন্দেহভাজন দলিলগুলোর কপিও চেয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
যেসব ভুয়া দলিলের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর মেধ্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির ডেমোক্র্যাট সিনেটর টম কার্পারের নামেও একটি দলিল ছড়িয়ে পড়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। কার্পার দাবি করেছেন, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর তদন্ত করা একটি দলিলে ভ্রান্তভাবে তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে রয়টার্স-এর পক্ষ থেকে কার্পারের এক মুখপাত্রের সঙ্গে কথা বলা হলে, তিনি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ওই ‘ভুয়া চিঠি’ ছাড়াও বহু ভুয়া দলিল তদন্তের জন্য এফবিআই এবং মার্কিন বিচার বিভাগের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে।
কার্পারের ওই চিঠি দেখেছেন এমন এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, তার নাম ব্যবহার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারিকে লেখা একটি চিঠিও তদন্তের মধ্যে রয়েছে। সেখানে লেখা, ‘আমরা আপনাকে এই নির্বাচনে হারতে দিতে পারি না।’
এফবিআই-এর এক মুখপাত্র রয়াটার্সকে জানিয়েছেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একটি ভুয়া চিঠির বিষয়ে তারা অভিযোগ পেয়েছেন। তবে এর বেশি তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। তবে এ সম্পর্কে ধারণা রয়েছে, এমন ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এফবিআই অন্যান্য ভুয়া দলিলের বিষয়েও তদন্ত করছে।
অপর এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এফবিআই কার্পারের চিঠি ছাড়াও ডেমোক্র্যাটিক নির্বাচনি প্রচারণার দায়িত্বে থাকা জোয়েল বেনেনসনের প্রতিষ্ঠান বেনেনসন স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ এবং ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের সাত পৃষ্ঠার ইলেকট্রনিক দলিলও তদন্ত করছে। হিলারি শিবির ওই দলিলকে ভুয়া বলে শনাক্ত করেছে। দলিলে দেখা যায়, হিলারি শিবির জরিপের ফলাফল গড়াপেটা করছে, সেই সঙ্গে নভেম্বরে বড় মাত্রায় কৌশলগত পরিবর্তন আনা হবে, যা মধ্যে রয়েছে সাজানো গণ-বিক্ষোভ এবং রেডিওলজি আক্রমণ, সেই সঙ্গে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা নোংরা বিষয়াদি সামনে তুলে ধরা।
কার্পারের চিঠির মতোই এই বিষয়টি নিশ্চিত নয় যে, এসব দলিল প্রকৃতপক্ষে কোথাকার এবং তা কিভাবে ছড়াতে শুরু করে। বেনেনসনের প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে ক্লিনটন ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, ওই দলিল ভুয়া। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র ক্রেইগ মিনাসিয়ান বলেছেন, এফবিআই ওই দলিলটি তদন্ত করেছে কিনা, তিনি তা জানেন না।
হিলারি শিবিরের মুখপাত্র গ্লেন ক্যাপলিন বলেছেন, ওই দলিলটি ছিল ভুয়া। এটি উইকিলিকসের ফাঁস করা ইমেইল কাজে লাগিয়ে ‘ভয়ঙ্কর স্টান্টবাজিরই’ অংশ বলে তিনি দাবি করেন।
রুশ সরকার মার্কিন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। বিপরীতে বরাবর সেই অভিযোগ অস্বীকার করে রাশিয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থায় এবারের মার্কিন নির্বাচন ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। আর সেখানে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থারও প্রভাব থাকবে।
/এসএ/বিএ/








