‘আফগান মোনালিসা’ নামে খ্যাত শরবত গুলাকে আফগানিস্তানে ফেরার অনুমতি দিয়েছে পাকিস্তান। শুক্রবার পেশওয়ারের এক আদালত তাকে দেশে ফেরার অনুমতি প্রদান করে।
শরবত গুলার আইনজীবী মুবাশির খান বলেন, ‘তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ৯ দিন কারাভোগ করেছেন। শাস্তি সম্পন্ন করতে তাকে আরও ৬ দিন কারাভ্যন্তরে থাকতে হবে।’
এর আগে তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ১ হাজার ১০০ ডলার জরিমানার বিধান দিয়েছিলো আদালত।
জাল পরিচয়পত্র নিয়ে পাকিস্তানে বসবাসের দায়ে গত ১৫ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটকের পরই শরবত বিবি বিশ্বব্যাপী খবরের শিরোনামে চলে আসেন।
কিন্তু, শরবত বিবিকে কোনও সহায়তা না করার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন (ইউএনএইচসিআর)। সংস্থাটির মুখপাত্র দুনিয়া আসলাম পাকিস্তানের একটি দৈনিককে বলেন,শরবত বিবি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রবিহীন আফগান শরণার্থী। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রধারী শরণার্থীদেরই কেবল ইউএনএইচসিআর সহায়তা করে।
এক সময় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সাময়িকীতে প্রচ্ছদকন্যা হয়েছিলেন শরবত বিবি। পরিণত হয়েছিলেন আফগান যুদ্ধের এক প্রতীকে। ধূসর সবুজ চোখের এখনকার এই নারী আফগান যুদ্ধের সময় ছিলেন বালিকা। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক প্রচ্ছদে স্থান পেয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আফগান যুদ্ধের মোনালিসা। সেই ‘আফগান বালিকা’ শরবত বিবিকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। পরিচয়পত্রে তথ্য জালিয়াতির দায়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তবে গ্রেফতার হওয়ার পর তার পক্ষে দাঁড়ান সেই বিশ্বখ্যাত ছবিটির ফটোগ্রাফার স্টিভ ম্যাককারি। তিনি দাবি করেন,শরবত বিবির মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।তিনি লেখেন,‘আমরা আমাদের বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য যতদূর সম্ভব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকি। আমি তার ও তার পরিবারের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তার জন্য যা কিছু সম্ভব করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি কর্তৃপক্ষের এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শরবত বিবি আজীবন কষ্ট করেছেন।’
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, বিবিসি
/ইউআর/








