নেভাদার সমাবেশে যে ব্যক্তির বিক্ষোভে ভীত হয়ে উঠেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, ক্ষণিকের জন্য মঞ্চ থেকে নামতে বাধ্য হয়েছিলেন; সেই ব্যক্তি নিজেকে রিপাবলিকান সদস্য বলে দাবি করেছেন। রিপাবলিকান হলেও ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতিকে সমর্থন করেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। তার অভিযোগ, ‘রিপাবলিকান অ্যাগেইন্সট ট্রাম্প’ (রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে) লিখে তিনি যখন প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তখন ট্রাম্প সমর্থকরা তাকে মারধর করে। তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। অস্টিন ক্রাইটস নামের ওই ব্যক্তি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, শনিবার নেভাদার রেনোতে প্রচারণা সমাবেশে যোগ দেন ট্রাম্প। হঠাৎ মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাকে মঞ্চ থেকে টেনে নামান। সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তারা এক বিবৃতিতে জানান, নেভাদার রেনোতে জনসমাবেশ চলাকালে ভীড়ের মধ্যে হঠাৎ করেই উত্তেজনা তৈরি হয়। একজন ‘অচেনা ব্যক্তি’ ‘বন্দুক’ বলে চিৎকার করে ওঠেন। অবশ্য পরে যথাযথ অনুসন্ধান চালিয়েও কোনও বন্দুক পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই সমাবেশস্থলে থাকা এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সিক্রেট সার্ভিসের সশস্ত্র কর্মীরা তাকে এক পার্শ্বঘরে নিয়ে যান। সিএনএন-এর খবরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে ওই ব্যক্তির নাম অস্টিন ক্রাইটস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি ছয় বছর ধরে নিবন্ধিত রিপাবলিকান। মেক্সিকান, মুসলিম ও নারীদের প্রতি ট্রাম্প যে ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকেন তার বিরোধিতা করেন তিনি। ট্রাম্পকে একজন একনায়ক ও ফ্যাসিস্ট-এর টেক্সটবুক সংস্করণ বলে উল্লেখ করেন অস্টিন। তার অভিযোগ, সমাবেশে তিনি যখন প্ল্যাকার্ডটি নিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্প সমর্থকরা তাকে লাথি, ঘুষি মারে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। পুরো ভীড় যখন তার ওপর হামলে পড়ে তখন জীবনহানিরও শঙ্কা করছিলেন তিনি।
এদিকে ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবারও মঞ্চে ফেরেন ট্রাম্প। নিরাপত্তাজনিত সহায়তা পেয়ে সিক্রেট সার্ভিসের কর্মকর্তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ বলেনি যে আমাদের জন্য কাজটা (প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়) সহজ হবে। কিন্তু আমরা থামব না। আমি সিক্রেট সার্ভিসকে ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা দুর্দান্ত ভূমিকা নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন নিয়ে চালানো সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি এগিয়ে থাকলেও দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুব একটা নেই এবং ক্রমশ দুইজন সমানে সমানে গিয়ে ঠেকছেন। আর সেকারণে নির্বাচনে কে জিততে যাচ্ছেন তা নিয়ে আভাস দেওয়াটাও জটিল হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ শনিবার প্রকাশিত ম্যাকক্ল্যাচি-ম্যারিস্ট এর জরিপে দেখা যায় ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যকার ব্যবধান আরও কমে এখন ১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে এ ব্যবধান ৬ পয়েন্ট ছিল। শনিবার ইউগভও একটি জরিপ প্রকাশ করেছে। সেখানে ট্রাম্প ও হিলারির ব্যবধান তিন পয়েন্ট বলে উঠে এসেছে।
/এফইউ/বিএ/








