মিয়ানমারের কথিত গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী এবং রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি তার নির্ধারিত ইন্দোনেশিয়া সফর বাতিল করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক খবরে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চরম উত্তেজনা দেখা গেছে। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় নয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়। দুই দিনের মাথায় ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও ১২ জনের মৃত্যুর কথা জানায়। তারা দাবি করে, প্রায় ৩০০ মানুষ পিস্তল এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে সৈন্যদের উপর আক্রমণ করলে সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ করে। তখন থেকেই মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘ যাকে ‘জাতিগত নিধন প্রক্রিয়া’ বলে রায় দিয়েছে। তাদের হিসেবে এবারের সংঘর্ষে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পররাষ্ট্র-বিষয়ক একজন মুখপাত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়োছেন, ইন্দোনেশিয়াতে সেই বিপন্ন রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। পাশাপাশি জাকার্তায় শুক্রবার আরেকটি বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই বিক্ষোভেও রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ের প্রশ্ন উঠে আসবে বলেই সু চি বৈঠক বাতিল করেছেন। সু চির নির্ধারিত বৈঠকটিও একইদিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ।
রাখাইন রাজ্যের সংঘর্ষকে হামলাকারীদের খোঁজে 'ক্লিয়ারেন্স অপারেশন' হিসেবে অভিহিত করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তারা বলছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ইসলামী চরমপন্থা দমনে কাজ করছেন তারা। সেখানে সংবাদমাধ্যমকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যে জাতিগত দমনপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া, নারীদের ধর্ষণসহ নানান ধারার শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চলছে।মিয়ানমারে থাকা ১০ লাখ নাগরিক হাজার হাজার বছরের বংশ পরম্পরায় সেখানে বাস করলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিকতা স্বীকার করে না। উল্টো তারা বাংলাদেশের ওপর দায় চাপিয়ে বলতে চায়, এরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গোদেরকে মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেই গণ্য করে।
জাতিসংঘের হিসেবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সেখানে ৩০,০০০ মানুষ ঘর হারিয়েছেন। পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। তবে রাজ্য থেকে পালিয়ে যেতে গিয়েও উগ্র জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধদের বাধার মুখে পড়ছেন তারা।
৪০ দিন ধরে রাখাইন রাজ্যে অবরুদ্ধ হয়ে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণসংস্থাগুলো। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এই ত্রাণ কার্যক্রমের সমন্বয় করছেন। ‘আমাদের সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হলো তারা যেন বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য না হয়।’ রয়টার্সকে বলেন জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার একজন মুখপাত্র। তবে তারপরও যারা নিতান্তই বাধ্য হয়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন, বাংলাদেশকে তাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
/বিএ/








