রোহিঙ্গাদের গ্রামে আগুন লাগিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী: এইচআরডব্লিউ

বিদেশ ডেস্ক
১৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৪১আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২:৫৪
image

রোহিঙ্গা গ্রামের পাশে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপস্থিতির স্যাটেলাইট ছবি ‘জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ার’ ধারাবাহিকতায় মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়িতে দেশটির সেনাবাহিনী আগুন লাগিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি বিশ্লেষণ করে তারা এ দাবি জানায়।

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা গ্রাম ওয়া পেইকের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে তারা দেখতে পেয়েছে, গ্রামটি যখন জ্বলছিল, তখন আশপাশে সেনাবাহিনীর ট্রাক যাতায়াত করছিল। মানবাধিকার সংগঠনটির দাবি, ছবিতে প্রমাণিত হয়েছে, আগুন দেওয়ার সময় সেনাবাহিনী সেখানেই উপস্থিত ছিল।

এইচআরডব্লিউ-র এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস্‌ বলছেন, ‘এটা বিশ্বাস করা কঠিন, সেনা সদস্যদের চোখের সামনে ওয়া পেইকের ৩০০ বাড়ি এক মাস ধরে জঙ্গিদের দেওয়া আগুনে পুড়েছে, আর তারা তা বসে বসে দেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্যাটেলাইটের এই ছবির পর মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তারা ধরা পড়ে গেছেন, তাদের ক্রমাগত অস্বীকৃতি যে বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে, সেটা এখন তাদের স্বীকার করা উচিৎ।’

চলতি বছরের অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে শুরু হওয়া ‘জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়ায়’ সেনা অভিযানের পর অন্তত ২৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।   

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রোহিঙ্গাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার পেছনে সেনাবাহিনীর হাত থাকার প্রমাণ হাজির করে দাবি উত্থাপন করেছে এইচআরডব্লিউ। কিন্তু মিয়ানমার সরকার প্রতিবারই ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

এইচআরডব্লিউ-র অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ ঠেই বলেছেন, রাখাইন রাজ্যের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে, সুতরাং এখন তারা কোনও মন্তব্য করবেন না।

সরকারি একটি তদন্ত দল পাঁচদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা গ্রামগুলো সফর করেছে। জানুয়ারির শেষ দিকে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

২০১২ সালে রাখাইনে জাতিগত দাঙ্গায় শতাধিক রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার গত কয়েক বছর সেখানে তেমন উত্তেজনা দেখা যায়নি। চলতি বছরের ৯ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় নয় পুলিশ সদস্য নিহত হয়। দুই দিনের মাথায় ১১ অক্টোবর মঙ্গলবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও ১২ জনের মৃত্যুর কথা জানায়। তারা দাবি করে, প্রায় ৩০০ মানুষ পিস্তল এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে সৈন্যদের উপর আক্রমণ করলে সেনাবাহিনী পাল্টা আক্রমণ করে। পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানায়, রাখাইনে সহিংসতায় অন্তত ৮৬ জন নিহত হয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না মিয়ানমার সরকার। সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা মনে করে রোহিঙ্গা মুসলমানরা বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেছে। গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরও এই বাস্তবতার বদল ঘটেনি। বরং নির্বাচনের আগে-পরে ফাঁস হয়েছে সু চির মুসলিমবিদ্বেষের নানা দিক। নির্বাচনে তিনি মুসলমানদের প্রার্থী করেননি। ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয়টিও অস্বীকার করেন সু চি।

সূত্র: বিবিসি।  

/এসএ/ 

সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম