সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে অস্কারের মঞ্চে ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা আসগর ফরহাদির উপস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছিল সংশয়। সেই সংশয়ের অবসান ঘটিয়েছেন অস্কারে বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পাওয়া ইরানি ছবি ‘দ্য সেলসম্যান’-এর নির্মাতা আসগর নিজেই। তিনি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার ব্যতিক্রম ঘটিয়ে তাকে ভিসা দেওয়া হলেও তিনি যোগ দেবেন না অস্কার প্রদানের অনুষ্ঠানে। এ খবর দিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
খবরে বলা হয়, ২৬ ফেব্রুয়ারি লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য অস্কার পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পরিকল্পনাই করেছিলেন আগসর ফরহাদি। সেখানে কোনও একটি বিষয়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণের পরিকল্পনাও ছিল তার। তবে গত শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার যে আদেশে সই করেছেন তাতে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন আসগর।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে পাঠানো এক বিবৃতিতে আসগর বলেন, ‘ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে এতসব শর্ত রয়েছে যে ওই আদেশের ব্যতিক্রম হিসেবে আমাকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমতি দেওয়া হলেও আমার পক্ষে ওই সফর করা সম্ভব হবে না।’
বিবৃতিতে ইরানের এই চলচ্চিত্র নির্মাতা আরও বলেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, তার দেশ ইরানেও রয়েছে উগ্রপন্থীরা। এসব উগ্রপন্থীরা দুই দেশের মানুষের কাছে বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতিকে অবাস্তব ও আতঙ্কজনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। এর মাধ্যমে তারা তাদের মধ্যেকার পার্থক্যকে বিভেদে, বিভেদকে শত্রুতায় এবং শত্রুতাকে আতঙ্কে পরিণত করার চেষ্টা করেছে। সংকীর্ণ মানসিকতার এসব ব্যক্তির উগ্রবাদী ও উন্মত্ত আচরণকে ন্যায়সঙ্গত করে তোলার জন্য মানুষের মনে এমন আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হিসেবেও উল্লেখ করেছেন আসগর।
বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানান আসগর ফরহাদি। এই নিষেধাজ্ঞা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদকে আরও বাড়াবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার এক নির্বাহী আদেশে সই করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ৯০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া চার মাসের জন্য সব ধরনের শরণার্থী এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য সিরিয়ান শরণার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ট্রাম্প।
/টিআর/আপ-এআর/








