মিয়ানমারের চীন সীমান্তে জাতিগত বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার সীমান্তবর্তী কোকাংয়ের লৌকাই শহরে এই সংঘর্ষ হয়। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েকরাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিদ্রোহীরা পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় হামলা চালায়। এই সংঘর্ষে পাঁচ বেসামরিক, পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা ও ২০ জন বিদ্রোহী সেনা নিহত হয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি বলেন, সশস্ত্র সংগঠন এমএনডিএএ এর হামলায় অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।’ মিয়ানমার ন্যাশনালিটিস ডে6মোক্রেটিক অ্যালিয়ান্স আর্মি (এমএনডিএএ) মিয়ানমারে অনেকদিন ধরেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
সোমবার সকালে তারা পুলিশ ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। এমএনডিএএ’র ফেসবুক পেজেও হামলার ব্যাপারে নিশ্চিত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে তারা দাবি করে, আত্মরক্ষার জন্য এই হামলা চালায়।
সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোমবার বেসামরিক নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে যাচ্ছেন। এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অন্ধকার হতে থাকলে সংঘর্ষের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এলাকাবাসীরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে যাচ্ছেন তবে প্রকৃত সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
২০১৫ সালের পর থেকে এই অঞ্চলে সোমবারের হামলাটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ছিলো। সীমান্তে এই হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। কোকাংয়ের অনেকেই চীনা ভাষায় কথা বলেন এবং চীনা মুদ্রা ব্যবহার করেন। গত বছর চীন সংলগ্ন মিয়ানমার সীমান্তে কয়েকটি বিদ্রোহী সংগঠনের সঙ্গে সেনা সদস্যদের সংঘর্ষের পর সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রেখেছে চীন।
মিয়ানমারের শান রাজ্যে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাতের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরহারা হয়েছে। এ রাজ্যে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বসবাস যারা চীন ও থাইল্যান্ড সীমান্তে তৎপরতা চালিয়ে থাকে। সংঘাত এড়াতে মিয়ানমারের যেসব নাগরিক সীমান্ত পার হয়ে চীনে প্রবেশ করছে তাদের কিছুসংখ্যককে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তবে আশ্রিতদের সংখ্যা কত তা প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: বিবিসি
/এমএইচ








