মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সারাবিশ্বের হয়ে সিরিয়ায় মিসাইল হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, সিরিয়ার সামরিক ঘাটিতে হামলার বিষয় ছিল সারা বিশ্বের হয়ে সিরিয়ার বিরুদ্ধে এক পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সিরিয়ায় হামলা চালানাকারীদের অভিনন্দন।’ তার এই টুইটের পক্ষ-বিপক্ষ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়ছে। টুইটের কয়েক মিনিটের মধে হাজর হাজার লাইক পড়লেও সমালোচনা করতেও ছা দেননি অনেকে।
বিরোধী পক্ষরা জানায়, ‘এটা কোনও খেলা নয়, মানুষ হত্যার জন্য আপনি অভিনন্দন জানাচ্ছেন।’ আরেকটি টুইটে বলা হয়, ‘আপনি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছেন কিন্তু কোনও ক্ষতি হয়নি ফলে ১০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আপনি কিছুই অর্জন করেন নি। বরং বৈশ্বিক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সিরিয়ান সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করা হয়নি। তবে সিরিয়ান রাষ্ট্রীয় সংবামমাধ্যম জানায়, এই হামলায় চারশিশুসহ সাতজন বেসামরিক মারা গেছেন।
এদিকে এই হামলা নিয়ে বিভক্ত হয়ে গেছেন বিশ্বনেতারা। রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিন-এর মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলা একটি সার্বভৌম দেশের ওপর আগ্রাসনের শামিল। এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এটা রুশ-মার্কিন সম্পর্কের ওপর একটা আঘাত; যা এরইমধ্যে বেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এ হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের লড়াইয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইকেল ফ্যালন বিবিসি’কে বলেছেন, আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলা মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ প্রচেষ্টা চালাতে চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফলে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাইকেল ফ্যালন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। যুক্তরাজ্যকেও এতে জড়িত হওয়ার কোনও আহ্বান জানানো হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চল ইদলিবে বিমান থেকে চালানো রাসায়নিক গ্যাস হামলার জবাবেই মার্কিন বাহিনী ওই হামলা চালিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘সিরিয়ার চালানো রাসায়নিক হামলার জবাবে আমি সামরিক স্থাপনায় ওই হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছি। এই মারাত্মক রাসায়নিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে এক ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করেন, বিশ্বকে নয়। ফলে বিশ্বের পক্ষ হয়ে কিছু করার প্রয়োজন নেই তার।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
/এমএইচ








