৩৫ বছর বয়সে ফরাসি সাম্রাজ্য দখল করে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছিলেন ইতালির সামরিক কমান্ডার নেপোলিয়ন। এরপর কেটে গেছে ১১৩ বছর। এই সময়ের মধ্যে এমন কেউ ফ্রান্স পরিচালনার দায়িত্ব নেননি যার বয়স ৪০ এর নিচে। ৩৯ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে নেপোলিয়নের পাশেই নাম লেখালেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ফরাসি রাজনীতির ইতিহাসে নেপোলিয়নের পরে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান।
তিন বছর আগে ইমানুয়েল ছিলেন সরকারের এক অখ্যাত উপদেষ্টা। তার দু’বছরের মাথায় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। আর রবিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্বে জয় পাওয়া ম্যাক্রোঁর বয়স এখন ৩৯। ১৭৬৯ সালে জন্ম নেওয়া নেপোলিয়ন তখনকার ফরাসি সাম্রাজ্য নিজের দখলে নিয়েছিলেন ১৮০৪ সালে। নিজেকে সম্রাট ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সে কারণে ম্যাক্রোঁই ফরাসি ইতিহাসের কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট। তার বিজয়ে ফরাসি রাজনীতিতে এক দীর্ঘপ্রতিক্ষীত প্রজন্মের পরিবর্তন আসলো, যে জ্যেষ্ঠ প্রজন্ম এতোদিন ধরে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।
উন্নত দেশগুলোর জোট জি৭-এর নেতাদের মধ্যেও ম্যাক্রোঁই সর্বকনিষ্ঠ। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ সালে ৪৩ বছর বয়সে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার বা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাদের থেকেও ম্যাক্রোঁর বয়স কম। ব্লেয়ার ৪৩ এবং কেনেডি ৪৪ বছর বয়সে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন।
বিশ্বব্যাপী এখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের উত্থানের ফলে ব্রিটেন বেরিয়ে যাচ্ছে ইইউ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সময়ে মধ্যপন্থী ম্যাক্রোঁ জয় পেলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে। এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ফরাসি লেখক মিশেল হোয়েলবেক বলেন, ‘তার (ম্যাক্রোঁ) প্রচারণা ছিল একটা গ্রুপ থেরাপির মতো। যা ফরাসিদের মধ্যে আশাবাদ জাগায়।’
মূলধারার দুই দল – ডানপন্থী রিপাবলিকান আর বামপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রতি জনগণের আস্থাহীনতার ফলে ফ্রান্সের রাজনীতিতে একদিকে উগ্র-ডানপন্থার বিস্তৃতি ঘটেছে। অন্যদিকে এই শূন্যতার পাটাতনে উত্থান ঘটেছে ম্যাক্রনের।
গত বছর আগস্টে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ‘এম মার্শে’ নামক একটি সংগঠন গঠন করে রাজনৈতিক পুনর্গঠন আন্দোলন শুরু করেন ম্যাক্রোঁ। আর এ প্রচারণার ফলে রবিবার নিরঙ্কুশ জয় পান তিনি। নির্বাচনে ম্যাক্রোঁ পেয়েছেন ৬৬.৬ শতাংশ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মেরিন লে পেন পেয়েছেন ৩৩.৯৪ শতাংশ ভোট।
/এসএ/বিএ/








