মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত মুসলিম নিষেধাজ্ঞা আংশিক কার্যকরে আদালতের সিদ্ধান্তে উৎফুল্ল রিপাবলিকান শিবির। সুপ্রিম কোর্টের এ সংক্রান্ত আদেশকে নিজের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ট্রাম্প। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নিয়ে আদালতের রায় ট্রাম্পের বিজয় নয়। খুব দ্রুত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার মতো কিছু নেই।
ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা এর আগে দফায় দফায় আদালতে খারিজ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয় ট্রাম্প প্রশাসন। আপিলের প্রেক্ষিতে আদালত ওই নিষেধাজ্ঞা আংশিক বহাল রেখেছেন। সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক নেই এমন বিদেশিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। আগামী অক্টোবরে এ বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে অবশ্য এ মুহূর্তে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি মনোনীত বিচারকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে যোগ দেন ট্রাম্পের মনোনীত নিল গোরসাচ। এতে মধ্য দিয়ে আদালতে ৫-৪ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনেন ট্রাম্প। আদালতে এখন রিপাবলিকান নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি রয়েছেন পাঁচজন। ডেমোক্রেটিক শিবির থেনে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক চারজন। সংগত কারণেই এপ্রিলে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক নিল গোরসাচ মুসলিম নিষেধাজ্ঞা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকরের পক্ষে মত দিয়েছেন।
আদালতের এ সংক্রান্ত আদেশের পর এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, আজ সর্বসম্মতিক্রমে সুপ্রিম কোর্ট যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য স্পষ্ট বিজয়। এতে সন্ত্রাসকবলিত ছয় দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের এমন কথিত বিজয় উদযাপনের সঙ্গে অবশ্য একমত নন আইনি বিশেষজ্ঞরা। ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ছয় মুসলিম দেশের বেশিরভাগ মানুষ এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
ফোর্ডহ্যাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেনিফার গর্ডন এক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, আমি মনে করি এটাকে প্রেসিডেন্টের বিজয় বলা একটা বিশাল অতিরঞ্জন। আদালত এ সংক্রান্ত যে নির্দেশনা দিয়েছেন তার দোহাই দিয়ে মুসলিম নিষেধাজ্ঞার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান।
/এমপি/








