দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে দলের নেতা নওয়াজ শরিফের প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানো নিয়ে চলমান সংকটের মধ্যেই নতুন জটিলতার মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দলটি থেকে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী শহীদ খাকান আব্বাসির বিরুদ্ধেও শুরু হতে যাচ্ছে দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে আব্বাসির বিরুদ্ধে ২২০০০ কোটি রুপি দুর্নীতির তদন্ত করবে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরো (এনএবি)।
এনএবি’র নথির ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, একটি কোম্পানিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি ও বিতরণের সুযোগ দিয়ে করা চুক্তিকে কেন্দ্র করে ২০১৫ সালে এনএবি মামলাটি দায়ের করেছিল। আব্বাসি এ মামলার মূল অভিযুক্ত। তিনি ছাড়াও এ মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন, সাবেক পেট্রোলিয়াম সচিব আবিদ সাইদ, ইন্টার স্টে গ্যাস সিস্টেমস (আইএসজিএস) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মবিন সাউলুত, বেসরকারি ফার্ম এনগ্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমরানুল হক এবংসুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানির (এসএসজিসি) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুহায়ের আহমেদ সিদ্দিকি। এনএবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এনগ্রোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান এলেনজি টার্মিনালের সঙ্গে এলএনজি আমদানি ও বিতরণের চুক্তি করাটা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটি (পিপিআরএ) এর বিধি ও এ সংক্রান্ত আইনের এর লঙ্ঘন।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই মামলাটি দায়ের করেছিল এনএবি। তবে এটি এখনও তদন্তের পর্যায়ে আছে। অথচ, এনএবি চেয়ারম্যান দাবি করে থাকেন তিনি নতুন এক কৌশল নিয়েছেন যার আওতায়, অভিযোগ যাচাই, তদন্ত এবং রেফারেন্স ফাইলের মতো বিষয়গুলো ১০ মাসের মধ্যে শেষ করতে হয়।
পাকিস্তানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ (পিএমএলএন-নওয়াজ)। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে কিছু সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাকে। সেই সময়ের জন্য একজন অন্তবর্তী প্রধানমন্ত্রী রিনর্বাচিত করতে হবে। আর ৪৫ দিনের জন্য সেই পদে খাকান আব্বাসিকে মনোনয়ন দিয়েছে পিএমএলএন। মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদে এ নিয়ে ভোটাভুটি হবে। আর তার আগেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন আব্বাসি।
/এফইউ/








