আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরের একটি বিমানবন্দরের কাছে ন্যাটো বহরে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার এক আত্মঘাতী বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি নিয়ে এ হামলা চালায়। কান্দাহার পুলিশের মুখপাত্র জিয়া দুরারানি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের সময় তারা সেখানে দুটি বিদেশি গাড়ি পুড়ে যেতে দেখেছেন।
জিয়া দুরারানি বলেন, কান্দাহারের দামান এলাকায় দুপুরে বিদেশি বাহিনীগুলোর বহর লক্ষ্য করে গাড়িবোমা হামলা চালানো হয়েছে।
কান্দাহারের বিমানবন্দর সংলগ্ন ওই এলাকায় ন্যাটোর একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ন্যাটোর এক বিবৃতিতে বুধবারের এ হামলার ঘটনা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় ‘হতাহতের’ ঘটনা ঘটেছে। তবে তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনও হতাহতের কথা উল্লেখ করেনি।
হামলার দায় স্বীকার করেছে আফগান তালেবানের মুখপাত্র ক্বারি ইউসুফ আহমাদি।
সম্প্রতি আফগানিস্তানে এ ধরনের হামলা বেড়ে গেছে। ১ আগস্ট ২০১৭ মঙ্গলবার দেশটির হেরাত প্রদেশের একটি শিয়া মসজিদে চালানো আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হন। হেরাত পুলিশের মুখপাত্র আবদুল আহাদ ওয়ালিজাদা তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে একটি মসজিদে এ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, দুই সন্ত্রাসী এ হামলায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে একজন সুইসাইড ভেস্ট পরা ছিল। প্রথমজন নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। তবে দ্বিতীয়জনের হাতে রাইফেল ছিল। তারা দুজনই নিহত হয়েছে। কাবুলের ইরাকি দূতাবাসে সন্ত্রাসী হামলার পরদিনই এ হামলা চালানো হয়।
ইরাকে বোমা বিস্ফোরণ, আত্মঘাতী হামলা অনেকটা নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে উঠলেও এই প্রথম সেখানে ইরাকি দূতাবাসকে টার্গেট করা হলো। সোমবার হামলাকারী ছিল মোট চারজন। তাদের একজন কাবুলের শার-এ-নে এলাকায় অবস্থিত ইরাকি দূতাবাসের গেটে শরীরে বাঁধা বোমা ফাটায়। এরপর বাকি তিনজন ভেতরে ঢোকে। বিস্ফোরণে দূতাবাসের দুজন রক্ষী মারা গেছে। ইরাকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের শীর্ষ কূটনীতিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া গেছে। দূতাবাসে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবে এ বছরের প্রথম ছয় মাসে আফগানিস্তানে সহিংসতায় ১৬৬২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এদের ২০ শতাংশই নিহত হয়েছে কাবুল শহরে।
/এমপি/








