পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফ দাবি করেছেন, ‘সেনা সরকার দেশকে সঠিক পথে নিয়ে এসেছিলেন কিন্তু বেসামরিক সরকার সবসময় একে বিপথে নিয়ে গেছে।' তার দাবি, একনায়কদের কারণেই এশিয়ার দেশগুলোর অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার (২ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি উর্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানে সামরিক শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসব মন্তব্য করেন মোশাররফ।
১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অপসারণ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান শাসন করেন মোশাররফ। প্রায় এক দশক দেশ শাসন করা পারভেজ মুশাররফ ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। চার বছর লন্ডন ও দুবাইয়ে কাটিয়ে ২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে দেশে ফিরে বেশ কয়েকটি মামলার মুখে পড়েন তিনি। তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বেলুচিস্তানের জাতীয়তাবাদী নেতা আকবার বাগতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টোকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালের মার্চে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুবাইয়ের উদ্দেশে পাকিস্তান ছাড়েন মোশাররফ। এরপর আর দেশে ফেরেননি।
বুধবার বিবিসি উর্দুকে সাবেক এই সেনাশাসক বলেন, ‘যখনই দেশে সামরিক আইন জারি হয়েছে তা সময়ের প্রয়োজনেই হয়েছে। স্বৈরতন্ত্র, সাম্যবাদ, সমাজতন্ত্র কিংবা রাজতন্ত্র যাই থাকুক না কেন যতক্ষণ পর্যন্ত দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায় ততক্ষণ জনগণ এ নিয়ে মাথা ঘামায় না।
একনায়কদের হাত দিয়েই সব এশীয় দেশের অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে পারভেজ মোশাররফ বলেন, পাকিস্তানও সেনা সরকারের শাসনে সঠিক পথে ছিল, কিন্তু যখনই তারা ক্ষমতা থেকে সরে গেছে তখনই বেসামরিক সরকার দেশকে বিপথে নিয়ে গেছে।
সামরিক ও বেসামরিক সরকারের সময়ের কাজের রেকর্ডগুলো আলাদা আলাদা করে যাচাই করে দেখলেই তার দাবির সত্যতা পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন সাবেক এ সেনাশাসক।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউনর জানায়, পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক ফিল্ড মার্শাল আইয়ূব খানের প্রশংসা করেন মোশাররফ। তার দাবি, আইয়ূবের শাসনামলে পাকিস্তানের অনেক উন্নয়ন সমৃদ্ধি হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ডাকার পতনের জন্য পাকিস্তান পিপল’স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা জুলফিকার আলি ভুট্টোকে দায়ী করেছেন মোশাররফ। অবশ্য, বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের জন্য জেনারেল ইয়াহিয়া খানকেও খানিক দায়ী করেছেন তিনি।
/এফইউ/








