নিরামিষভোজী ও কয়েকটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর আপত্তির পরও পশুর চর্বিযুক্ত পলিমার নোট ছাপানো অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) ব্যাংকটি এ ঘোষণা দেয়।
পশুর চর্বিযুক্ত ওই ব্যাংক নোটের বিরুদ্ধে গত বছর যুক্তরাজ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে নিরামিষভোজীদের একটি গ্রুপ। কয়েকটি ধর্মীয় গোষ্ঠীও এ নোটের প্রতিবাদ জানায়। ওই দাবিতে অনলাইনে এক লাখেরও বেশি স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই ইস্যুতে একটি পাবলিক কনসালটেশনের উদ্যোগ নেয়। এই মতামত গ্রহণ শেষে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, পলিমার নোটে পশুর চর্বির বিকল্প হিসেবে পাম ওয়েলের মতো কিছু ব্যবহার করা হলে তা টেকসই হবে না। তাছাড়া এটি ব্যয়বহুলও হবে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানায়, পাম ওয়েলের (নোটে ব্যবহারের ক্ষেত্রে) পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া, ব্যাংকের সাপ্লা্য়াররা এ মুহূর্তে যথেষ্ট পরিমাণ পাম ওয়েল সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের পেছনে মুদ্রার মূল্যমানও বিবেচ্য ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নতুন পদ্ধতিতে মুদ্রা ছাপাতে গেলে আগামী ১০ বছরে বাড়তি এক কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড ব্যয় হবে। ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে চলতি বছর ৫ ও ১০ পাউন্ডের এবং ২০২০ সালে ২০ পাউন্ডের যে নোট ছাপা হবে তাতে পশুর চর্বিযুক্ত পলিমার ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
ব্যাংকের এ ঘোষণার পর পিপল ফর দ্য ইথিকাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিমেলস (পেটা) এর পরিচালক এলিসা অ্যালেন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মাংস ও চর্বির জন্য প্রতি বছর কয়েক লাখ গরু জবাই করা হয়।’ তিনি এর বিরুদ্ধে জনগণকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ওই গণমতামত গ্রহণ কর্মসূচিতে অংশ নেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ। তাদের ৮৮ শতাংশই পশুর চর্বি ব্যবহারের বিপক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, পাম ওয়েল উপজাতের বিপক্ষে ছিলেন ৪৮ শতাংশ।
বিশ্বের ৩০টির বেশি দেশে পলিমার ব্যাংক নোটের প্রচলন রয়েছে। কাগজের চেয়ে বেশি টেকসই বলেই পলিমার নোট ব্যবহার করা হয়।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ব্যাংক নোটই নয়, পশুর চর্বিযুক্ত প্লাস্টিক ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফোন, কসমেটিকস, সাবান, গৃহস্থালি বিভিন্ন দ্রব্য ও গাড়ির যন্ত্রাংশে ব্যবহৃত হয়।
/এএম








