ভারত অধিকৃত কাশ্মিরে ‘জঙ্গি ভেবে’ ১৯ বছর বয়সী এক নিরস্ত্র শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) হাফরাদার জঙ্গল এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত তরুণের নাম শহীদ বশির মীর। তিনি হান্ডওয়ারা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, মঙ্গলবার বশির মীর নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনী দাবি করে, বন্দুকযুদ্ধে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বশির মীর জঙ্গি নন, তিনি শিক্ষার্থী। দুইদিন ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কাশ্মির পুলিশের প্রধান মুনির খানও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বশির মীর বেসামরিক নাগরিক, তার কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। মুনির খান বলেন, ‘কিভাবে তিনি নিহত হলেন সেটা তদন্তের বিষয়।’
বশির মীরের পরিবার আল জাজিরাকে জানায়, সোমবার সেনাদের একটি দল এসে বশিরকে তুলে নিয়ে যায় এবং তখন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বশির মীরের বাবা আহমদ মীর বলেন, ‘ওইদিনের পর থেকে তাকে আমরা আর দেখিনি। সব জায়গায়, জঙ্গলে, প্রত্যেক গ্রামে তাকে আমি খুঁজেছি কিন্তু পাইনি। একদিন আমি পুলিশ স্টেশন থেকে একটি মরদেহ শনাক্ত করার জন্য টেলিফোন পেলাম। গিয়ে দেখলাম আমার ছেলের দেহ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে আছে, তার চেহারা বিকৃত হয়ে পড়েছে।’
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতার আশঙ্কায় কাশ্মিরের উত্তরাঞ্চলের কলেজ ও স্কুলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার।








