ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং এর ব্যাগ বহনের দায়ে শীর্ষস্থানীয় এক আইনজীবীকে বরখাস্ত করেছে হরিয়ানার সরকার। ধর্ষণ মামলায় রাম রহিম দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার ব্যাগ বহন করতে গিয়ে ক্যামেরায় ধরা পড়েন গুরদাস সিং সালওয়ারা নামের ওই ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল। সালওয়ারা দাবি করেছেন, রাম রহিম তার আত্মীয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ১৫ বছরের পুরনো এক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রাম রহিম। এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাক পরা ‘ধর্মগুরুর সঙ্গে একটি ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন বিতর্কিত ধর্মগুরু। আদালতের পোশাক পরিহিত অবস্থাতেই আরেকটি কমলা রংয়ের ব্যাগ হাতে নিয়ে রাম রহিমকে সহযোগিতা করছিলেন হরিয়ানা সরকারের দ্বিতীয় শীর্ষ আইনজীবী সালওয়ারা। পরে এ অপরাধে সালওয়ারাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করেন হরিয়ানার অ্যাডভোকেট জেনারেল বলদেব রাজ মহাজন।
রাজ মহাজন বলেন, ‘দেখা গেছে গতকাল সালওয়ারা সাহেব বাবাকে (রাম রহিম) সঙ্গ দিয়েছেন।’ মহাজনের দাবি, সরকারি কর্মী হিসেবে সালওয়ারা এ কাজ করতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেলের সঙ্গে ডেরার সম্পর্ক রয়েছে।’
২০০২ সালের ধর্ষণ মামলায় শুক্রবার সিবিআই কোর্টে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ভারতের স্বঘোষিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে রোহটাকে সুনারিয়া জেলের একটি নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। কারাবন্দি হিসেবে তার পরিচিতি নম্বর ১৯৯৭। ভারতে যে ৩৬ জন ভিভিআইপি জেড ক্যাটাগরির সুরক্ষা পান, রাম রহিম তাদের মধ্যে একজন। কিন্তু ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা ‘বিলাসী’ এ ধর্মগুরু কারাগারে কেমন দিনকাল কাটাচ্ছেন তা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এরইমধ্যে অভিযোগ উঠেছে কারাগারে ভিআইপি’র মতো থাকছেন রাম রহিম। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা পুলিশের মহাপরিচালক কেপি সিং শনিবার জানান, রাম রহিম অন্য সাধারণ কারাবন্দিদের মতো মেঝেতে ঘুমিয়েছেন।
/এফইউ/








