জাপানের আকাশসীমা দিয়ে উড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তরাঞ্চলে উত্তর কোরিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে গুরুতর ও নজিরবিহীন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে এমন উদ্বেগ জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর দাবি, মঙ্গলবার ভোর ৬টার কিছু সময় আগে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ং ইয়ং এর কাছের এলাকা সুনান থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের আকাশ অতিক্রম করে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কিছুক্ষণ পরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া যে জঘন্য কর্মকাণ্ড চালিয়েছে তা একটি নজিরবিহীন, গুরুতর ও চরম হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
শিনজো আবে জানান, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ৪০ মিনিট ধরে টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। ওই আলাপনের মধ্য দিয়ে দুই মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ জোরালো করার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নিতে জরুরি বৈঠক ডাকার জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানাবেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর দাবি, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় উঠেছিল এবং অন্তত ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে। জাপানের সরকারি সংবাদমাধ্যম এনএইচকেও দাবি করে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোর উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি উড়ে গেছে এবং তিন টুকরো হয়ে ১১৮০ কিলোমিটার পূর্বে কেপ এরিমো এলাকার পানিতে পড়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে এখনও মন্তব্য করা হয়নি।








