ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হতে যাচ্ছেন বলে সম্ভবত আগেই আভাস পেয়েছিলেন ২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং। আর সে ধারণা মাথায় রেখে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলার জন্য পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছিলেন এ স্বঘোষিত ধর্মগুরু। ভারতের পুলিশের দাবি, সমর্থকদের মধ্যে উসকানি তৈরি করে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করেছিলেন রাম রহিম। বিভিন্ন সংকেত ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। উত্তেজনা তৈরি করতে স্বয়ং রাম রহিমই লাল রংয়ের একটি ব্যাগকে সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সফল হননি স্বঘোষিত এ ধর্মগুরু। বুধবার (৩০ আগস্ট) ভারতীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক কে কে রাও এসব কথা জানিয়েছেন।
কে কে রাও এর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ২৫ আগস্ট ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করেন পাঁচকুলার আদালত। এর পর পরই রাম রহিমের সমর্থকরা রাস্তায় নেমে আসেন এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রতিবাদে পাঁচকুলা ও সিরসায় তাণ্ডব শুরু করেন। ওই ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হয়। আদালেত প্রাঙ্গণ থেকে রাম রহিমকে ছিনিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়ে গ্রেফতার হন কয়েকজন সমর্থক। পুলিশের মহাপরিদর্শক কে কে রাও এর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, এসব পরিকল্পনা আগে থেকেই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার ধর্ষণ মামলায় রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণার পরে আদালত কক্ষে একটি লাল ব্যাগ চেয়ে পাঠান ডেরা প্রধান। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যাগে তার কাপড়চোপড় আছে। তবে পুলিশ বলছে, ওই লাল ব্যাগই ছিল রাম রহিমের সংকেত।
বুধবার কে কে রাও সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডেরা প্রধান ব্যাগটি চেয়ে পাঠান, বলেন সেখানে তার কাপড় আছে। এটি প্রকৃতপক্ষে তার সমর্থকদের জন্য সংকেত ছিল। এর মধ্য দিয়ে তিনি যে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তা সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ ছিল, যেন সমর্থকরা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন। ‘বাবা’র গাড়ি থেকে যখন ব্যাগটি নামানো হলো তখনই ২-৩ কিলোমিটার দূর থেকে টিয়ার গ্যাস শেলের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। তখনই আমরা বুঝে গেলাম এ সংকেতের পেছনে কোনও অর্থ আছে।’
প্রায় একই সময়ে ডেরার বাছাই করা মাস্তানদের মোবাইলে এসএমএসে পৌঁছায় একটি সাংকেতিক বার্তা— ‘টোম্যাটো ফোড়ো’। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সম্ভবত সিরসায় ডেরার সদর দফতর থেকেই পাঠানো হয়েছিল সেই এসএমএস। মর্মার্থ একই, ‘ভাঙচুরে নেমে পড়ো।’ পার্থক্য শুধু একটাই। ‘লাল ব্যাগ’ ছিল সরাসরি গুরমিতের সংকেত। আর সেই সংকেতের আড়ালেই তৈরি ছিল তার পালানোর ছক।
৮০টিরও বেশি গাড়ির বহর নিয়ে আদালতে এসেছিলেন ডেরা প্রধান। গাড়িগুলো অপেক্ষা করছিল আদালত থেকে জেলে যাওয়ার রাস্তায়। কে কে রাও এর দাবি, রামরহিমকে নিয়ে পুলিশের বহর আসা মাত্রই ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেওয়া ছিল গাড়ির লোকদেরকে। ঠিক ছিল, সেই হুলস্থুলের মধ্যেই পালাবেন গুরমিত। তবে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। মাত্র চার গাড়ির কনভয়ে গুরমিতকে নিয়ে হঠাৎ উল্টো পথ ধরেন তিনি। এই সময়েই বেঁকে বসেন জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া ধর্মগুরুর রক্ষীরা। হাতে একে-৪৭ ধরা এই কম্যান্ডোরা গাড়ি ঘোরানোয় বাধা দিলে পুলিশরা তাদের পিটিয়ে নিরস্ত্র করে।
গাড়ি ঢুকে পড়ে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। এক কর্নেলের সঙ্গে কথা বলে রেখেছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। সেখান থেকেই গুরমিতকে নিয়ে রোহতকের জেলের দিকে উড়ে যায় হেলিকপ্টার। আইজি রাওয়ের কথায়, ‘হিংসা ছড়িয়ে ভিড়ের মধ্যে পালানোর সব ছকই কষা ছিল। কম্যান্ডোরা গুলি চালালে আরও ক্ষতি হতে পারত।’








