রাখাইনে মিয়ানমারের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে প্রবেশকারী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ ও উদ্ধার সংস্থার তরফ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনুমতি মিললেই এই ত্রাণ পাঠানো হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে উদ্ধৃত করে পার্সটুডের খবরে তেহরানের ৯৫ টন ত্রাণ পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় 'বিদ্রোহী রোহিঙ্গা'রা ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। এরপর থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। শরণার্থী হয়ে তারা ছুটতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর হিসেবে সাম্প্রতিক জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে এরইমধ্যে ৩ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোর্তেজা সালামি জানিয়েছেন, একটি কার্গো বিমান করে এসব ত্রাণ নেয়া হবে এবং বাংলাদেশ সরকারের অনুমতির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই তা পাঠানো হবে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতিসংঘ ছাড়াও আরও ১৬টি মানবিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ত্রাণ কার্যক্রমে অসহযোগিতা আর বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে তখন বলা হয়, কখনও ভিসা বন্ধ করে, কখনও সহায়তাকর্মীদের ফেরত পাঠিয়ে, কখনওবা আবার স্থানীয় প্রশাসনের রক্তচক্ষুর মাধ্যমে ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এতে লাখ লাখ রোহিঙ্গার জীবন শঙ্কা দেখা দেয় বলে অভিযোগ তুলেছে মানবিক সহায়তার আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো।
মোর্তেজা সালামি জানান, প্রাথমিকভাবে এসব ত্রাণ-সামগ্রী মিয়ানমারে পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছিল কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরোধিতার কারণে পরে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইরানের এ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ৪০ টন ত্রাণ পাঠানোর চিন্তা করা হয়েছিল কিন্তু বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ও প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে ইরান স্বেচ্ছায় তা বাড়িয়ে এখন ৯৫ টন করেছে।








