রোহিঙ্গা মুসলমিদের ওপর মিয়ানমার আরও তাণ্ডব চালাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। আন্তর্জাতিক এই মানবাধিকার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মংডু শহরের নতুন এলাকার গ্রামগুলোকে তাণ্ডবের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইটে ধরা পড়া সক্রিয় আগুনের চিত্র এমনটাই নির্দেশ করছে।’ ১৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
এর আগে আরেক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রোহিঙ্গাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। ওই ছবি প্রকাশের পরই এ বিবৃতি দিলো এইচআরডব্লিউ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করার পর বর্মী সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনযজ্ঞের প্রধান কাজ হয়ে উঠেছে নির্বিচারে অগ্নিসংযোগ।
এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন। তিনি বলেন, স্যাটেলাইটের ছবি আর আমাদের মাঠ পর্যায়ের সমীক্ষা একই রকম কথা বলছে। নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি দায়ী মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের সরকারি হিসাবে, এরইমধ্যে দেশটির ৪০ শতাংশ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। ফলে বাদবাকি রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করতেই সেনাবাহিনী নতুন করে নির্বিচারে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জাও হাতা জানান, তার দেশের ১৭৬টি রোহিঙ্গা গ্রাম এখন পুরোপুরি জনশূন্য। এসব গ্রাম ছেড়ে সবাই পালিয়ে গেছেন। এটা মিয়ানমারের মোট রোহিঙ্গা গ্রামের ৪০ শতাংশ। এছাড়া অন্তত ৩৪টি গ্রাম প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী ‘পরিকল্পিতভাবেই’ রোহিঙ্গা মুসলিমদের গ্রামগুলো জ্বালিয়ে দিচ্ছে-এমন প্রমাণ রয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে তোলা রাখাইন রাজ্যের ছবি বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি জানায়, গত তিন সপ্তাহে ৮০টিরও বেশি স্থানে বিশাল এলাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগী স্থানীয় গোষ্ঠীগুলো এই কাজ করছে।
স্যাটেলাইটে তোলা ছবি, স্যাটেলাইটে আগুন শনাক্ত করতে পারে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া ছবি ও মানুষের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানায়, ২৫ অগাস্টের পর থেকে মোট ৮০টি জায়গায় ব্যাপক মাত্রায় অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টির কর্মকর্তা তারানা হাসান বলছেন, এটা পরিষ্কার যে সুপরিকল্পিতভাবে এসব সহিংসতা চালানো হচ্ছে। যেসব জায়গায় আগুন দেওয়া হয়েছে সেই জায়গাগুলোর চার বছর আগের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে কোনও অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেখা যায়নি। বেছে বেছে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতেই আগুন দেওয়া হয়েছে। আর যেসব গ্রামে রোহিঙ্গা এবং রাখাইনরা পাশাপাশি বাস করে, সেখানে রাখাইন বাড়িগুলো আগুনের হাত থেকে বেঁচে গেছে।








