রোহিঙ্গা সংকটে চীনকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারের জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হয়ে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ৫ লাখ শরণার্থীকে নিয়ে বাংলাদেশ যে সংকটে পড়েছে তা মোকাবেলায় চীনকে সহায়তার হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে কুয়ালালামপুর। মালয়েশীয় সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ স্ট্রেইট টাইমস-এর এক খবর থেকে এসব কথা জানা গেছে।
নিউ স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, চীনের রাজনৈতিক ও আইন বিষয়ক সচিব মেং হিয়ানঝু’র সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে এ আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি। উপ-প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে স্ট্রেইট টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে মেং বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের কাছে এক কোটি ডলারের খাদ্য, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
স্ট্রেইট টাইমস-এর খবর অনুযায়ী, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে তাতে চীন সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন মেং। এ নিয়ে এ দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক বেশ কিছু উদ্যোগ ও সমঝোতার চেষ্টা।
নিউ স্ট্রেইট টাইমস বলছে, বাংলাদেশে প্রতিদিনই সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী। তাদেরকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। এরইমধ্যে এবারের সহিংসতায় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
মিয়ানমারে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের’ ভয়াবহতায় জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গার দুর্দশায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশা দেখতে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি’কে কক্সবাজার সফরের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব সংস্থাটির সাতজন বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত এ জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন বন্ধে বার্মিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনের এক বিবৃতিতে তারা এ আহ্বান জানান।
এদিকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনপীড়নকে মানবতাবিরোধী অপরাধ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এইচআরডব্লিউ। সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা এই পর্যবেক্ষণ হাজির করে। হত্যা-ধর্ষণ-উচ্ছেদের বিপুল আলামত পাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের চারটি ক্ষেত্র শনাক্ত করেছে এইচআরডব্লিউ।








