বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলারের তহবিল গঠনের আবেদন জানিয়েছে ইউনিসেফ, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ৬২৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা।
এই তহবিলের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের সহায়তা করা হবে। যারা সম্প্রতি এসেছেন ও আগে এসেই অবস্থান করছেন। ৭ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। ২৫ আগস্টের পর পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বলেন, ‘প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে শিশুরা তাদের পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে আসছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব সাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে আমরা পেরে উঠছি না। এই শিশুরা তাদের শৈশব হারিয়েছে। আমরা তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চাই।’
বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থগত সুবিধাই এখন রোহিঙ্গাদের বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে যেকোনও সময় ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া পোলিওর মতো রোগ থেকেও সুরক্ষিত নয় শিশুরা।
অক্টোবর মাসেই কলেরার টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১ বছরের বেশি বয়সী সব শিশুকেই এই টিকা দেওয়া হবে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে ৯ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে।
এর আগে ৭০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা চাওয়া হলেও সংকটের মাত্রা বেশি হওয়ার এই তহবিলের আকার বড় করেছে ইউনিসেফ।
ইউনিসেফের কার্যতালিকায় থাকছে:
১. অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষের বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। ৪০ শতাংশ মানুষের পরিচ্ছন্তা নিশ্চিত করা। শিশুদেরকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধ্যন্য দেওয়া হবে।
২. টিকারসহ অন্যান্য মাধ্যমে রোগের প্রতিকার খুঁজে বের করা। বাড়িতে পানির উৎস নিয়ে কাজ করা। কলেরা নিয়ে কাজ করা ও তথ্যের মাধ্যম সবাইকে সচেতন করা। চিকিৎসা নেওয়ার স্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে সংবাদমাধ্যম, ধর্মীয় নেতা ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তা নেওয়া।
৩. সাড়ে সাত হাজার শিশুর অন্তত ৬০ শতাংশের পুষ্টিগত চাহিদা নিশ্চিত করা। রেডিটু ইউজ খাবার ও দুধের মাধ্যমে অপুষ্টি দূর করা।
৪. শিশুদের সুরক্ষায় মানসিক সহায়তা করা, বিনোদনের ব্যবস্থা করা। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার শিশুর জন্য চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস গড়ে তোলা। এক্ষেত্রে ইউনিসেফ রেড ক্রসের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।
৫. প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। মানসিক সহায়তার পাশাপাশি বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
৬. প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতেরর সঙ্গে একত্রিত হয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা করা। তাদের মৌলিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা।








