রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মানবিক সহায়তায় নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন রিফিউজি ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট এরিক পি শুয়ার্টজ। সম্প্রতি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করা এই মার্কিন মানবাধিকার কর্মী রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের ভূমিকাকে ‘সঠিক ঐতিহাসিক অবস্থান’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। তখন থেকেই মিলতে থাকে বেসামরিক নিধনযজ্ঞের আলামত। সহিংসতা থেকে বাঁচতে তখন থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশের তরফ থেকে তাদের আশ্রয় নিশ্চিত করা হয়। এ সম্পর্কে বাংলা ট্রিবিউনকে শুয়ার্টজ বলেন, ‘আমি মনে করি এ সিদ্ধান্ত প্রশংসার দাবিদার। বাংলাদেশ সরকার প্রমাণ করেছে তারা ইতিহাসের সঠিক অবস্থানে থাকতে চায়।’
এরিক পি শুয়ার্টজ মনে করেন, মানবাধিকার ইস্যুতে মিয়ানমার যদি প্রকৃত অগ্রগতি না আনতে পারে এবং এ ধরনের ঘৃণ্য নিপীড়নের জন্য দায়ীদেরকে দোষী সাব্যস্ত না করে, তবে দেশটির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি তৎপরতা চালাতে পারে। শুয়ার্টজের মতে, সংকট নিরসনের জন্য মিয়ানমার উদ্যোগ না নিলে ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বহুপক্ষীয় অস্ত্র অবরোধ আরোপের জন্য নিরাপত্তা পরিষদকে চাপ দেওয়া; রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষকে বিতাড়িত করতে গিয়ে যেভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে তার আলামত সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া।
শুয়ার্টজ বলেন, প্রশাসন, কংগ্রেস এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে জরুরি ভিত্তিতে এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে এবং পরিবর্তন আনতে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে। তার মতে, ‘এ ট্র্যাজেডি কেবল হৃদয়বিদারকই নয়; এ মানবতাবিরোধী অপরাধের অবসান ও প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব ও আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষার আরেকটি পরীক্ষা এটি।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ভারত যে অবস্থান নিয়েছে তার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা জানিয়েছেন শুয়ার্টজ। তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের ভূমিকায় হতাশ। ভারত এমন একটি দেশ হিসেবে পরিচিত যেটি মানবাধিকারকে সম্মান করে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সম্মান করে, আন্তর্জাতিক আইনজনিত নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখে, অথচ দেশটি রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের অবস্থান প্রশ্নে চরম আপস করছে। এটা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হচ্ছে না।’








