সব রোহিঙ্গাকে কুতুপালং ক্যাম্পে রাখার পরিকল্পনায় ‘বিপদ’ দেখছে জাতিসংঘ

বিদেশ ডেস্ক
০৮ অক্টোবর ২০১৭, ১০:১৩আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:০০
image

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য বাংলাদেশে যে বিশাল শরণার্থী ক্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে তা ‘বিপদজনক’ হবে বলে মনে করেছে জাতিসংঘ। একটি বড় শিবিরে লাখ লাখ শরণার্থীকে রাখার পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাগত ঝুঁকি সৃষ্টির আশঙ্কা জানিয়েছেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রবার্ট ওয়াটকিনস। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির কাছে ওই মহাপরিকল্পনা নিয়ে এসব কথা বলেছেন ঢাকায় জাতিসংঘের এই আবাসিক সমন্বয়ক।
রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বের সবথেকে বড় শরণার্থী শিবির নির্মাণের পরিকল্পনা

নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য কুতুপালংয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানান,  সব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে  অন্যান্য সব ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।তবে শনিবার ঢাকায় রবার্ট ওয়াটকিনস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে বলেন,  ‘যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ একটি সুনির্দিষ্ট সংকীর্ণ স্থানে থাকবে, আর সেই মানুষগুলো যদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে, তাহলে তাকে বিপদজনক বলতেই হবে।’

২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সহিংসতায়  এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পূর্বের চার লাখের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সবমিলে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রবার্ট ওয়াকিনস আগামী ৬ মাসে আরও ৩ লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন ক’দিন আগেই। রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন তিনি।

রবার্ট  বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘একস্থানে মাত্রাতিরিক্ত মানুষ বসবাসের ফলে নানা ধরনের মরণঘাতী রোগ দ্রুত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।’ এছাড়া সেখানে আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। বাংলাদেশ বলছে, একটি বড় ক্যাম্পে সব শরণার্থীকে রাখা গেলে ত্রাণ ও নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হবে। তবে রবার্ট ওয়াটকিনসের মন্তব্য, ‘একটি ক্যাম্পে গাদাগাদা মানুষ রাখার চেয়ে বেশি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্প বানালে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলার কাজটা অনেক বেশি সহজ হবে।’

উল্লেখ্য, কুতুপালং ক্যাম্পকে ২০টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে, পরবর্তীতে যেগুলোকে ক্যাম্পে রূপান্তর করা হবে। ক্যাম্পের বাইরে যে সব ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা বর্তমানে আছেন ক্রমান্বয়ে তা গুটিয়ে নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ক্যাম্পের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় ও অন্যান্য স্থানে যে সব রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন তাদের ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে।

/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম