মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের কুতুপালং-এর শরণার্থী শিবিরে রাখার পরিকল্পনায় কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে। জাতিসংঘের আশঙ্কা, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের একত্রিত বসবাসে কলেরার মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। গত মাসের শেষ সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোহিঙ্গা শিবিরে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কথা জানায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য কুতুপালংয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ শরণার্থী ক্যাম্প তৈরির পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া জানান, সব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে অন্যান্য সব ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে শনিবার ঢাকায় রবার্ট ওয়াটকিনস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রসঙ্গে বলেন, ‘যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ একটি সুনির্দিষ্ট সংকীর্ণ স্থানে থাকবে, আর সেই মানুষগুলো যদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে, তাহলে তাকে বিপদজনক বলতেই হবে।’ একটি মাত্র শিবিরে সবাইকে না রেখে বিভিন্ন স্থানে একাধিক শিবিরে শরণার্থীদের রাখা হলে তাদেরকে সামাল দেয়া, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবেলা সহজ হবে বলে মনে করেন রবার্ট ওয়াটকিনস।
২৫ আগস্ট নিরাপত্তা বাহিনীর চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন জোরদার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৫ লাখ ১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পূর্বের চার লাখের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সবমিলে প্রায় ৯ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের আশ্রয়ে ১২০০ হেক্টর জায়গা ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে গড়ে তোলা হবে মেগাক্যাম্প। এজন্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থারও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে রবার্ট মনে করেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষ বসবাসের ক্ষেত্রে রোগের ঝুঁকি খুবই বেশি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে রবার্ট বলেন, ‘একস্থানে মাত্রাতিরিক্ত মানুষ বসবাসের ফলে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।’
২৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের সবগুলো ক্যাম্পে করা এক পরীক্ষার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। আর এর সম্ভাবনা খুবই বেশি। পরীক্ষায় প্রাপ্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন তৈরি করা আবাসগুলো বসবাসের উপযুক্ত নয়। ইউনিসেফ থেকে জানানো হয়, খুব শিগগিরই ৯ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর জানায়, ডায়রিয়ার ব্যাপারে তাদের কাছে খুব বেশি তথ্য নেই। তবে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মতে, ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। নতুন করে ক্যাম্প তৈরিতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র অ্যান্দ্রে মাহেসিস বলেন, ‘বাংলাদেশে খুব তাড়াতাড়ি কলেরা ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং মহামারি আকার ধারণ করতে পারে। হাজার হাজার মানুষ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করায় এই আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির রয়েছে উগান্ডা ও কেনিয়াতে। দুই ক্যাম্পেই প্রায় ৩ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশের পরিকল্পনা সফল হলে আট লাখের মতো শরণার্থী থাকবে আশ্রয়কেন্দ্রে।








