সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধ: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার হুমকি মিয়ানমারের

বিদেশ ডেস্ক
০৪ নভেম্বর ২০১৭, ১১:২৯আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪৫
image

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর প্রস্তাবিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে জেনারেলদের সঙ্গে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের ক্ষমতার দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তেমনটা ঘটলে দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।  খারাপ পরিণতির দিকে যেতে পারে দেশটির বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।  গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির দফতর থেকে  মুখপাত্র জ হতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এসব আশঙ্কার কথা বলেন।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ ও প্রথম এশিয়া সফর শুরুর ঠিক আগের দিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে আইনপ্রণেতারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবসংবলিত একটি বিল উত্থাপন করেন।  রোহিঙ্গা সংকটে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপের একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে বিলটিকে। মার্কিন সিনেটরদের একাংশের উত্থাপিত এই বিল পাস হলে গত বছর মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রত্যাহারকৃত কিছু নিষেধাজ্ঞা আবার ফিরে আসতে পারে। এ ছাড়া বিল পাস হলে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে দেওয়া মার্কিন সহায়তাও বন্ধ হয়ে যাবে।

ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় অং সান সু চির মুখপাত্র জ হতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, মিয়ানমারের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা দরকার। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তা এ দেশের জনগণের ভ্রমণ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিনিয়োগে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া আরও অনেক খারাপ পরিণতি বয়ে আনতে পারে সিদ্ধান্তটি। মুখপাত্র বলেন, ’এ দেশের পুনর্গঠন কাজ সু চি সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। রাখাইন নিয়ে যে পদক্ষেপই মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সরকার গ্রহণ করুক তাতে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করতে হবে।  ২০০৮ সালের সংবিধানের অধীন সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করেই সব করা হচ্ছে। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সরকারের কাজে ব্যাঘাত ঘটাবে।’ 

মুখপাত্র আরও বলেন, মিয়ানমারে ১৫ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের আসার কথা। ওই সময় রাখাইন নিয়ে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তাঁর কাছে তুলে ধরা হবে। ‘আগামী ১৫ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরে রাখাইন সম্পর্কে তার কাছে দেশটির সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হবে। আমরা কী করছি সেটা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বুঝিয়ে বলব। অবরোধের বিষয়ে তো আর কিছু বলতে পারব না। কারণ আমরা মার্কিন নীতি সম্পর্কে কিছু জানি না ।’ বলেন তিনি।

এদিকে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব নিয়ে বিলটি উত্থাপনকারী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন সিনেটের আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইন ও সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য বেন কার্ডিন। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও অনুরূপ একটি বিল আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সিনেটে বিল উত্থাপন-পরবর্তী আলোচনায় আইনপ্রণেতারা রোহিঙ্গাদের দুর্দশার জবাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাপ দেন।



/বিএ/
সম্পর্কিত
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম