প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি আর অভিযানের পর অবশেষে শামসাদ টিভি স্টেশনকে হামলাকারীর কাছ থেকে মুক্ত করেছে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। এরইমধ্যে টিভি চ্যানেলটির সম্প্রচারও আবার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থাটি। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী মুনাফাভিত্তিক মার্কিন ওয়েবসাইট সাইট ইনটেলিজেন্স জানিয়েছে জঙ্গি সংগঠন আইএস এর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে। এর আগে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক টুইটার পোস্টে দাবি করেন, হামলায় তার সংগঠন জড়িত নয়।
মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের একটি স্থানীয় টেলিভিশন স্টেশন শামসাদ টিভি ভবনে গ্রেনেড ও বন্দুক দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়েছে, গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ওই টেলিভিশন ভবনে প্রবেশ করে হামলাকারীরা। হামলা চলার সময় সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিলেন এমন এক সংবাদকর্মী বার্তা সংস্থা এএফপিকে তখন বলেছিলেন, ‘অনেকেই ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।’ শামসাদ টিভির ফয়সাল জালান্দ নামের ওই রিপোর্টার বলেন, ‘আমি সিসি ক্যামেরাতে তিনজন হামলাকারীকে টিভি স্টেশনে প্রবেশ করতে দেখি। তারা প্রথমে নিরাপত্তা রক্ষীকে গুলি করে, তারপর প্রবেশ করে। এরপর তারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং গুলি ছুঁড়তে থাকে। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের দমন করার চেষ্টা করছে। আমার কয়েকজন সহকর্মী নিহত হয়েছেন, আহতও হয়েছেন কয়েকজন। আমি পালিয়ে আসতে সক্ষম হই।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই চ্যানেলের কার্যালয়ে প্রথমে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এরপর তারা গুলি চালাতে শুরু করে।
হামলার কিছুক্ষণ পরেই টেলিভিশন চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিন ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি আর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর টিভি স্টেশনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানায় নিরাপত্তা বাহিনী। হামলার সমাপ্তি ঘোষণার পর তা আবার খুলে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরই শামসাদ টিভির এক ঘোষণায় বলা হয়, ‘হামলার সমাপ্তি হয়েছে। বিশেষ বাহিনীর কমান্ডারের তথ্য অনুযাযী ভবনের ভেতরে থাকা সব কর্মীকে উদ্ধার করা হয়েছে।’
সাইট ইনটেলিজেন্স জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস শামসাদ টিভিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির কথিত বার্তা সংস্থা 'আমাক' এ দায় স্বীকারের খবর প্রকাশ করেছে।








