পরিকল্পিত পন্থায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ব্যাপকতর নিপীড়নের ঘটনাগুলো বাস্তবায়ন করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। নিপীড়ন বাস্তবায়নের এই পরিকল্পিত পথকে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ আর গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন জাতিসংঘের দূত প্রমিলা পাটেন। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।
যুদ্ধে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘের দূত প্রমিলা পাটেন গত মাসে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান জিয়েদ রা’দ আল হুসেনের সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করে তিনিও একে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে পাটেন বলেন, যৌন সহিংসতার ব্যাপকতার কারণে মিয়ানমার থেকে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতি হিসেবে রোহিঙ্গাদের ধ্বংস ও বিতাড়িত করার একটি সুপরিকল্পিত অস্ত্র হিসেবে যৌন সহিংসতাকে ব্যবহার করা হয়েছে।
জাতিসংঘের নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য কমাতে গঠিত জাতিসংঘ কমিটির সাবেক এই সদস্য জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তাদের বিরুদ্ধে ঠান্ডা মাথায় সবচেয়ে হৃদয়বিদারক, দুঃথজনক ও ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা শুনেছেন তিনি। সেখানে শাস্তি স্বরুপ নারীদের দল বেঁধে ধর্ষণ, জোরপূর্ব নগ্ন করে রাখা ও যৌন দাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্যাটেন জানান, রাখাইনে সবচেয়ে নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নারী ও মেয়েদের পাথর বা গাছের সঙ্গে বেঁধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে। অনেককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। কিছু মেয়েকে তাদের বাড়িতেই ধর্ষণের পর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি ২৫ আগস্টের আগেও মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা শিশুদের আগুনের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। তারা যাতে পান করার পানি না পায় সে জন্য শিশুদের গ্রামের কূপগুলোর মধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে।
যদিও মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে তারা উত্তর রাখাইন প্রদেশ পরিদর্শনের অনুমতিও দেয়নি। বৌ্দ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার কখনই রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের দাবি, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষ। এজন্য তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয়নি।
গত ২৫ আগস্ট কয়েকটি সেনা তল্লাশি চৌকিতে হামলা হয়েছে দাবি করে রাখাইন রাজ্যে অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। এর ফলে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার গ্রুপ এই অভিযানকে ‘জাতিগত নিধন’ বলে অভিহিত করেছে।








