মিয়ানমার সরকারের আপত্তিতে দেশটিতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়ানঘি লীর আসন্ন সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জানুয়ারিতে দেশটি সফর করার কথা ছিল তার। কিন্তু বুধবার (২০ ডিসেম্বর) মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতিসংঘের এই তদন্তকারীকে আর কোনও সহযোগিতা দেওয়া হবে না।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিপীড়নসহ মিয়ানমারজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত করতে জানুয়ারিতে মিয়ানমার সফরের কথা ছিল ইয়ানঘি লীর। বুধবার এক বিবৃতিতে লী জানিয়েছেন, মিয়ানমার সরকার তাকে সফরের অনুমতি দেয়নি। তার সন্দেহ, রাখাইনে এমন ভয়াবহ কিছু ঘটছে যা আড়াল করতে তাকে সফরে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে ইয়ানঘি লী বলেন, ‘আমাকে অসহযোগিতা করার এই ঘোষণাটি রাখাইনসহ মিয়ানমারে ভয়াবহ কিছু ঘটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিয়ানমার এই রাস্তা বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা লজ্জার। মিয়ানমারজুড়ে, বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়ার অভিযোগ বার বারই অস্ভকিার করে আসছে দেশটির সরকার। তারা দাবি করেছে, তাদের আড়াল করার কিছু নেই, কিন্তু আমাকে এবং সত্য অনুসন্ধানকারী দলকে তাদের সহযোগিতা না দেওয়াটা অন্য কিছুই বোঝাচ্ছে।’
জাতিসংঘের এই বিশেষ দূতের আশা, মিয়ানমার সরকার তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাবে। তিনি আরও জানান, দুই সপ্তাহ আগে জাতিসংঘে নিয়োজিত মিয়ানমারের দূত সহযোগিতা দিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় ‘বিস্মিত’ এবং ‘হতাশ’ হয়েছেন।
ইয়ানঘি লীর দাবি, জুলাই মাসে মিয়ানমার সফরের পর তিনি যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তার প্রতিক্রিয়াতেই এইবার সহযোগিতা না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।








