সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইসলামাবাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে নিজেদের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিবরণ হাজির করেছে দেশটি। জাতীয় কর্ম পরিকল্পনার আওতায় বিগত তিন বছরে গৃহীত উদ্যোগের সারসংক্ষেপ হিসেবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের ভাষ্য, কয়েক বছরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। পাকিস্তানের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষকে(নাকটা) উদ্ধৃত করে পাকিস্তানভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম জিও টিভি এই খবর জানিয়েছে।
সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তোলার পর বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে সেই সাহায্য বন্ধের ঘোষণা আসে।তবে গত আট বছরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার পরিমাণ ৫৮ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ-নাকটাএক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তালেবান ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি ইসলামাবাদ। তবে নাকটা তাদের ৪০পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০১০ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ২ হাজার ৬০ টি যা ২০১৭ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৮১তে।
নাকটার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পাকিস্তান দণ্ডবিধির আওতায় ৪৮৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ৩৪২টি মামলা সামরিক আদালতে পাঠানো হয়েছে। দেশজুড়ে ২ লাখ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আর গ্রেফতার করা হয়েছে ৬ হাজার ৯৯৮ জনকে। অভিযানে প্রায় আড়াই হাজার ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে সারাদেশে ১৯ হাজার ৫৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থ যোগানবিরোধী অভিযানে প্রায় দেড়শ কোটি পাকিস্তানি রুপি উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় এক হাজার ২০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাকিস্তান ৬৫টি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করেছে। এদের মধ্যে চারটিকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ৮ হাজার ৩৭৪ ব্যক্তিকে এটিএ’র নির্ধারিত তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫ হাজার ৮৯টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে ১৫ কোটি ৭০ লাখের বেশি রুপি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে স্থানান্তর করেছে। আর দুই হাজার ৫২ব্যক্তির চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর জন্য ৬ হাজার ২৭ জন নিরাপত্তা কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২২ হাজার ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূ-মানচিত্র অঙ্কন কাজও শেষের দিকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ফিল্টার করতে ও সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে পাকিস্তান টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে এক হাজার ৪৪৭টি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। তবে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী অর্জনের বিষয়ে তেমন কিছু বলা হয়নি।








