আসামে ‘বৈধ নাগরিকদের’ বিতর্কিত একটি তালিকা তৈরির প্রতিবাদে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়েছে কলকাতায়।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস চত্বরে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’ ও ‘সদভাবনা মঞ্চ’। এতে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার নিয়ে সোনোয়ালের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন সংগঠনের সদস্যরা। সভায় হাজির হয়েছিলেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র পক্ষে অধ্যাপক ইমানুল হক বলেন, ‘আসামে নাগরিক নিবন্ধনের নামে বাঙালিদের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই রাজ্যে বসবাসকারী মুসলমান ও হিন্দুদের দেশ ছাড়া করার পরিকল্পনা করছেন সর্বানন্দ সোনোয়ালরা। উনি কি বাঙালিদের অবস্থা রোহিঙ্গাদের মতো করতে চান? নাগরিক নিবন্ধনের নামে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অমানবিক আচরণ করছে আসাম সরকার। ওই রাজ্যের কাঁটাতারে ঘেরা ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা বাঙালিদের, যাদের অধিকাংশই মুসলমান, তাদের অবস্থা দেখলে চোখে জল চলে আসে। এর বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সোচ্চার হওয়া উচিত। আমরা শনিবার কলকাতায় ‘আসাম ভবনে’ গিয়ে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ অনুমতি না দেওয়ায় আজ এ চত্বরে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে জড়ো হয়েছি। আগামী দিনে আমরা আরও বড় ধরনের আন্দোলনের পথে যাবো।’
সদভাবনা সংগঠনের তরফে সুখবিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া বলেন, ‘আমি পাঞ্জাবি হলেও মনেপ্রাণে বাঙালি। স্বাধীনতা আন্দোলনে সব থেকে বেশি রক্ত ঝরিয়েছিল বাঙালি ও পাঞ্জাবিরাই। তারাই আবার দেশভাগের ফলে সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা ভোগ করেছে। এখন আবার বাঙালিদের দেশ ছাড়া করার পরিকল্পনা করছে আসাম সরকার। এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আর এই ঘৃণ্য চক্রান্ত রোধ করার জন্য যদি প্রাণও দিতে হয় তা দেবো। কিন্তু আসামের মুসলিম, হিন্দু ভাই-বোনদের দেশছাড়া করতে দেবো না।’








