পাকিস্তানের কুররাম এজেন্সি এলাকায় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে আফগান শরণার্থী শিবির। পাকিস্তানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি আফগান শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ড্রোন হামলার অভিযোগ সরাসরি স্বীকার বা অস্বীকার না করে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তারা আফগান শরণার্থী শিবিরে হামলা চালায়নি। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিও দাবি করেছে, পাকিস্তানের যে এলাকায় হামলা হয়েছে সেখানে কোনও শরণার্থী শিবির নেই। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনও স্থানীয়দের যে বক্তব্য হাজির করেছে সেখানেও শরণার্থী শিবিরের উল্লেখ নেই।
কুররাম এজেন্সির স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে ডন জানায়, বুধবার (২৪ জানুয়ারি) একটি চালকবিহীন বিমান থেকে থাল শহরের কাছে স্পিন থাল এলাকার একটি মাটির ঘরে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। সেসময় ইহসান উল্লাহ ও নাসির মেহমুদ নামে দুই ব্যক্তি নিহত হন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাসের মধ্যে এটি স্পিন থালে তৃতীয় ড্রোন হামলা। বুধবার এ ড্রোন হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে এর নিন্দা জানায় পাকিস্তানি পররাষ্ট্র দফতর। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সকালে কুররাম এজেন্সির একটি আফগান শিবির লক্ষ্য করে রিসলিউট সাপোর্ট মিশনের ড্রোন হামলা চালানোর ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাচ্ছি।’ এ ধরনের ‘একতরফা পদক্ষেপ সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করবে বলেও ওয়াশিংটনকে সতর্ক করা হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ‘শরণার্থী শিবির’ এর ব্যাপারে বিস্তারিত বলেননি।
পাকিস্তান সরকারের ওই দাবির একদিন পর বৃহস্পতিবার তা নাকচ করে দেনপাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র রিক সিনেলসাইন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী কুররাম এজেন্সির আফগান শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে বলে গতকাল পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়েছে তা মিথ্যা।’
স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এএফপি জানায়, আফগান সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত কুররামের মামুজাই গ্রামে ভোর হওয়ার আগেই হামলা হয়। এটি পাকিস্তানের আধা-সায়ত্ত্বশাসিত আদিবাসী অঞ্চল। এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঞ্চলে একসময় জঙ্গিরা দায়মুক্তি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতো। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার এক মুখপাত্র এএফপি’র কাছে দাবি করেন, ওই অঞ্চলে কোনও শরণার্থী শিবির নেই এবং হামলাস্থলের ছবিতেও সেরকম কোনও চিহ্ন নেই। স্থানীয় কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ওই এলাকায় শরণার্থী শিবির আছে বলে তাদের জানা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আফগান শরণার্থী শিবিরে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকারের পরও বৃহস্পতিবার আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে পাকিস্তান। এদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র দাবি করেন, ওই এলাকায় দুটি শরণার্থী শিবির রয়েছে এবং এর একটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে।








