বিশ্বজুড়ে সাড়াজাগানো বিকল্পধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ শারীরিক ও মানসিকভাবে ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় আছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পরীক্ষার পর এমনটাই দাবি করেছেন চিকিৎসকরা। তাদের ধারণা, লন্ডনে অবস্থিত ইকুয়েডরের দূতাবাসে অনেকদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও চিকিৎসক সন্দ্রা ক্রসবি ও লন্ডনভিত্তিক কনসালটেন্ট ক্লিনিকের মনোবিজ্ঞানী ব্রক চিসোম তিনদিন ধরে প্রায় ২০ ঘণ্টা পরীক্ষা করেন অ্যাসাঞ্জকে। তাকে পরীক্ষা করা দুইজন চিকিৎসক লন্ডন হাসপাতালে তাকে নিয়ে যেতে নিরাপত্তা চেয়েছেন।
গার্ডিয়ানে লেখা এক কলামে তারা জানান, পরীক্ষার ফলাফল আমরা দায়বদ্ধতার কারণে প্রকাশ করতে পারছি না। তবে আমরা এতটুকু নিশ্চিত করতে পারি যে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুবই অসুস্থ। মানবাধিকার হিসেবেই তার স্বাস্থ্যসেবা জরুরি।
চিকিৎসকরা বিস্তারিত কিছু না বললেও পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে দূতাবাসে অবরুদ্ধ থাকার কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।
সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন অ্যাসাঞ্জ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন তিনি। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা, তিনি সুইডেনে গেলে সুইডিশ সরকার তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ করবে। আর যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বিচারের নামে মৃত্যুদণ্ড দেবে। ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে বের হলে সুইডেন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে প্রত্যর্পণ না করার নিশ্চয়তা চান অ্যাসাঞ্জ। গত বছর সুইডিশ প্রসিকিউটররা ওই অভিযোগের তদন্ত বন্ধ করে দেন। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। উইকিলিকসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে মার্কিন কতৃপক্ষও অ্যসাঞ্জকে বের করে দিতে চাপ দিচ্ছেন।
২০১৬ সালে উইকিলিকসে প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, অ্যাসাঞ্জের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে।
তবে ব্রিটিশ সরকার তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেয়নি। দূতাবাসে চিকিৎসার জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিললেও তাদের আকার এত বড় যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
অ্যাসাঞ্জ সমর্থকদের আশঙ্কা, অ্যাসাঞ্জ দূতাবাস থেকে বের হওয়া মাত্রই তাকে গ্রেফতার করা হবে এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।








