মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে মিয়ানমার। সরকারের মুখপাত্র জা তায় বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত ছিল।’ সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম স্ট্রেইটটাইমসের এক প্রতিবেদনে থেকে এসব কথা জানা যায়।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ১০ সদস্যের একটি প্যানেল করেছেন। ওই প্যানেলে পাঁচজন বিদেশি সদস্য ছিলেন। সফরের তিন দিন পার করেই পর সু চির বিপক্ষে অবস্থান নেন রিচার্ডসন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন কোনও প্যানেলে বসে থাকতে পারি না যেখান থেকে রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপারে পুরো বিশ্বের ‘চোখে ধুলো’ দেওয়ার হবে।’
রোহিঙ্গা নিরসনে গঠিত মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চির ১০ সদস্যের ওই প্যানেল থেকে বুধবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন রিচার্ডসন। বলেন, তিনি লোক দেখানো ওই প্যানেলের অংশ হতে চান না। নোবেল বিজয়ী সু চির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তার মধ্যে নেতৃত্বগুণের অভাব রয়েছে।’ রয়টার্সের সাংবাদিকদের মুক্তির কথা উল্লেখ করলে সু চির ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার কথাও জানান রিচার্ডসন। বলেন, ‘সাংবাদিকের বিষয় জানতে চাওয়ায় সু চি এতটাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যে আমি তার কাছে থাকলে হয়তো মেরে বসতেন।’ রিচার্ডসনের সমালোচনার জবাবে জা তাও বলেন, ‘আমরা রয়টার্সের সাংবাদিকদের ব্যাপারে তার আবেগের বিষয়টা বুঝি। কিন্তু তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে কথা বলার এখতিয়ার রিচার্ডসনের নেই।’
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ও ধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে যুক্তরাষ্ট্রও। অনেকদিন ধরে চলে আসা নিধনযজ্ঞ নজর কাড়তে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিশ্বসংস্থাগুলোতে। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে বিশ্ব। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে অং সান সু চি’র একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্যানেল গঠন করেন। বুধবার কথিত এই প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেন।








