রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে গঠিত আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটির প্রধান বলেছেন, আটক হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিষয়ে আদালতের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবেন না তারা। রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহের সময় আটক হওয়া ওই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দাফতরিক গোপনীয়তা আইনে মামলা চলছে। গত সোমবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারে প্রকাশিত সাক্ষাতকারে আনান কমিশনের সুপারিশে গঠিত কমিটির প্রধান সুরাকিয়ার্ট সাথিরাথাই বলেন, আটক পর্যায়ে হলে আমাদের কিছু একটা করার ছিলো।
গত ১২ ডিসেম্বর দুই পুলিশ সদস্যের দেওয়া রাতের খাবারের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে আটক হন রয়টার্সে কর্মরত দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ি উ। প্রথমে আটকের কথা স্বীকার না করলেও কয়েকদিন পর তথ্য মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পাতায় আটকের কথা জানানো হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের রাখাইন ইস্যুতে দাফতরিক গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আগামী বৃহস্পতিবার ওই দুই সাংবাদিককে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। মামলার শুনানিতে সেদিন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন অব্যাহত রাখবে সরকার পক্ষ।
প্রসিকিউশন মামলার মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটির প্রধান ও থাইল্যান্ডের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাথিরাথাই বলেন, আমার মনে হয় প্রত্যেকেরই আইনের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।
রাখাইনে রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে মিয়ানমার। আনান কমিশন নামে পরিচিত ওই কমিটি বেশ কিছু সুপারিশ করে। সেই সুপারিশগুলোর অন্যতম ছিলো একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটি গঠন। দশ সদস্যের আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিটি থেকে গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক বিল রিচার্ডসন। পদত্যাগের পর তিনি জানিয়েছিলেন, ২২ জানুয়ারি পরামর্শক কমিটির সভায় রয়টার্সের রিপোর্টারদের প্রসঙ্গ তুললে ক্ষেপে যান মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি। সেদিনের পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে রিচার্ডসন বলেন, কাছাকাছি থাকলে সু চি হয়তো আমাকে মেরে বসতেন।
ওই কমিটির প্রধান সাথিরাথাই দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারকে বলেন, মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী থাং তুনের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি আটক দুই সাংবাদিকের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। ‘সে সময় তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন রয়টার্স রিপোর্টারদের সঙ্গে আইন অনুযায়ী ও অপরাধ বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আচরণ করা হবে, বলেন সাথিরাথাই। সাবেক থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কাউকে ছেড়ে দেওয়া বা আদালতের বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনও উদ্দেশ্য আমাদের নেই।
তবে এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সাথিরাথাইকে পায়নি রয়টার্স। গত ১২ ডিসেম্বর আটক হওয়ার থেকেই ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে আটক আছেন ওই দুই সাংবাদিক।








