মালদ্বীপে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকট সমাধানে দেশটির নেতারা ভারতের হস্তক্ষেপ চাইলেও চীন জানালো বাহিরের কোনও হস্তক্ষেপের বিপক্ষে তারা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ানর এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে তারা জানায়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মালদ্বীপের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, ‘কোনও দেশের এমন কিছু করা উচিত হবে না যেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে।’
সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
জরুরিঅবস্থা জারির পর মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত আইনে কঠোরতা আনা হয়। গ্রেফতার হন প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদ ও বিচারপতি আলি হামিদ। আদালতের অভ্যন্তরে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন অন্য বিচারকরা। আটক হন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিনের সৎ ভাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম। প্রেসিডেন্টের দাবি, সর্বোচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়িত হলে মালদ্বীপের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্বের আশঙ্কা ছিল। ব্যাহত হতে পারতো জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ।
এরপর ভারতের সহায়তা চাইতে শুরু করে মালদ্বীপের বিরোধী দলের নেতারা। তবে মালদ্বীপের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে চীনের। ভারত মহাসাগরে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে বিশাল অংকের বিনিয়োগ রয়েছে তাদের। আর এই বিষয়টি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন ভারত।
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিরোধী দলীয় নেতা মোহাম্মদ নাশিদ মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় বলেন, ভারতের সামরিক বাহিনীর সহায়তা বিশেষ প্রতিনিধিদল পাঠানো উচিত যারা মালদ্বীপে আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্ত করতে পারেন।
তবে চীন জানায়, মালদ্বীপের নিজেরই উচিত এই সমস্যার সমাধান করে ফেলা। গেং বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট কর বলেছি। মালদ্বীপের নিজেদেরিই এই সমস্যাসার সমাধান করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব তাদের। আমি বিশ্বাস করি সেই সক্ষমতা তাদের রয়েছে।’
মালদ্বীপের বিরোধী দলগুলোর দাবি প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে সমর্থন করছে চীন। তবে চীনের দাবি, মালদ্বীপে যা হচ্ছে সেটা অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আর চীন তাদের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।








