শুক্রবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের আলামত মিলেছে। ওয়া লোন ও কিয়াও সো উ যৌথভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। ওই দুই সাংবাদিক এখন মিয়ানমার সরকারের হাতে আটক রয়েছেন। রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবারের প্রকাশিত প্রতিবেদনটিই তাদের আটকের নেপথ্য কারণ।
ওয়া লোন ও কিয়াও সো উ নামে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে ১২ ডিসেম্বর আটক করে মিয়ানমার পুলিশ। এই ঘটনা তুলে ধরার জন্য রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্টস-এর অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ প্রমাণ হলে ১৪ বছরের সাজা হতে পারে তাদের। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থাটির দাবি, এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্যই তাদের আটক করেছে মিয়ানমার সরকার।
সেনাবাহিনী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিলেও গ্রামবাসীর ওপর ঘটনার দায় চাপানোর চেষ্টা করে। নিহতদের তারা ‘বাঙালি জঙ্গি’ আখ্যা দেয়। সেই ঘটনার অনুসন্ধান চালিয়ে রয়টার্স দেখিয়েছে, ওই ১০ রোহিঙ্গা ছিলেন সাধারণ গ্রামবাসী। ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণসহ খোদ সংশ্লিষ্টদের কাছে থেকে পাওয়া বিবরণের ভিত্তিতে এসব কথা জানায় রয়টার্স। তাদের দাবি, এই প্রতিবেদনের কারণেই তাদের দুই সাংবাদিককে আটক করে রেখেছে মিয়ানমার।
বার্তা সংস্থাটির প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে এডলার বলেন, ‘ওয়া লোন ও কিয়াও সোকে যখন গ্রেফতার করা হয় তখন আমরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। আমরা যখন সেখানের আইনি ব্যবস্থা বুঝতে পারি আমরা তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলি। আমাদের মনে হয় তাদের পরিশ্রমের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা আমাদের দায়িত্ব।’
২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। রাখাইনের সহিংসতাকে জাতিগত নিধন আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।








