রিয়াদ-তেল আবিব ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এক নারী অ্যাকটিভিস্টকে আটক করেছে সৌদি পুলিশ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ এএলকিউএসটি-র বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা নোহা আল বালাউয়ি নামের ওই অ্যাকটিভিস্টকে আটকের খবর দিয়েছে।
বিগত মাসগুলোতে সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে। মার্কিন মিত্রতার সূত্র ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আধিপত্যশীল রাজনীতির বিপরীতে ইসরায়েলকে মিত্র বিবেচনা করছে সৌদি আরব। ফিলিস্তিন ইস্যুর অস্বস্তিকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের গোপন সামরিক জোট গড়ার খবরও এসেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। আর সম্পর্কের এই স্বাভাবিকীকরণের সমালোচনা করতেন অ্যাকটিভিস্ট নোহা আল বালাউয়ি। সৌদি আরবের মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার গ্রুপ এএলকিউএসটির হয়ে কাজ করতেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার মানবাধিকার গ্রুপটি জানায়, স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হাজির হতে বলার পর গত ২৩ জানুয়ারি নোহাকে আটক করা হয়। এখনও আটক থাকা এই অ্যাকটিভিস্টের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আশঙ্কা করছে ওই গ্রুপটি। নোহার বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়েরের পর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এএলকিউএসটি বলছে, নোহার আটকাবস্থাকে অস্বীকার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। এর আগে মানবাধিকার গ্রুপটি পাঁচ দিনের মধ্যে নোহাকে মুক্তি দেওয়ার সৌদি-প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে বেশ কয়েকবার কর্তৃপক্ষের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন নোহা। ইসরায়েল-সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েন নোহা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বহুল প্রচলিত একটি ভিডিওতে নোহাকে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলতে শোনা যায়, স্বাভাবিকীকরণ মানেই হলো দখলদারিত্বের বৈধতা দেওয়া। নোহা বলেন, আমি পরিস্কার করে বলি, ইসরায়েলকে আমরা স্বীকৃতি দেবো না। এজন্য যে মূল্যই দিতে হোক না কেনও তাতে আমরা ভীত নই। নোহা ওই ভিডিওতে বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে আরব অঞ্চলে কেউ একবিন্দু লাভবান হয়নি। এর মাধ্যমে শুধু জায়নবাদী রাষ্ট্রটির সর্বোচ্চ লাভ হয়েছে।








