মালদ্বীপে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতিকে আটকের ঘটনা দেশটির বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হামলা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেছে একটি জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা।
সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক আদেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মালদ্বীপে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে নির্বাহী ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। জরুরি অবস্থা জারির পর এ সংক্রান্ত আইনে কঠোরতা আনা হয়। গ্রেফতার হন প্রধান বিচারপতি আব্দুল্লাহ সাঈদ ও বিচারপতি আলি হামিদ।
জাতিসংঘের সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ সুপ্রিম কোর্টের ওপর সরাসরি হামলা তার বৈধতা ও স্বাধীনতার মর্যাদাকে খর্ব করেছে। এছাড়া দেশের সংবিধানিক মূলনীতি ও মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় কোর্টের সামর্থকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটা পরিষ্কার যে, এখন মালদ্বীপে আইনের শাসন অবরুদ্ধ। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই, দেশের সংবিধান ও আইনের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেনে বিচারবিভাগের স্বাধীনতায় ব্যাঘাত ঘটায় এমন হস্তক্ষেপ বা হুমকি প্রত্যাহার করে নিতে আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট গাইয়ুমকে আটক করা হলেও কোনও ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বিবৃতিতে বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, ‘প্রেসিডেন্ট গাইয়ুমকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। যদি বড় ধরনের তদন্ত চলে আর গাইয়ুম বিপজ্জনক ব্যক্তি হয়ে থাকে তাহলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’
এদিকে শুরু থেকেই সংকট নিরসনের ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আসছে মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সঙ্গে যোগ দিয়ে দেশটিতে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার ও আটক বিচারকদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানতে মালদ্বীপ সরকারের অস্বীকৃতিকে ‘বিরক্তিকর’ বলে উল্লেখ করা হয়।








