মিয়ানমারের ত্রাণ, পুনর্বাসন ও সমাজসেবামূলক মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয় বলেছেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবে ঢাকা থেকে পাঠানো ৮ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা যাচাই-বাছাই করে দেখবে তারা। ওই মন্ত্রী জানিয়েছেন, তালিকায় থাকা মানুষেরা মিয়ানমারের বাসিন্দা কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে। তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে দিনে ২ থেকে ৩শ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে ঠিক কতো সময় লাগবে, সে সম্পর্কে কোনও ধারণা দেননি তিনি।
জানুয়ারিতে সম্পাদিত ঢাকা-নেপিদো প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নেওয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি। তবে মিয়ানমার-বাংলাদেশ প্রত্যাবাসন চুক্তি অনুযায়ী সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ার কথা বলে প্রত্যাবাসন স্থগিতের ঘোষণা আসে একদিন আগে (২২ জানুয়ারি)। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এর আগে ১১ হাজার মিয়ানমার নাগরিকের (রোহিঙ্গা) তালিকা দিয়েছিলাম। ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করছে মিয়ানমার। এবার বিচ্ছিন্নভাবে নয়, ১ হাজার ৬৭৩ পরিবারের ৮ হাজার ৩২ জন মিয়ানমার নাগরিকের তালিকা তাদের কাছে দিয়েছি।’
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই তালিকা থেকে সাড়ে ছয় হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক পদক্ষেপ নেবে মিয়ানমার। বিপরীতে মিয়ানমারের মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত জানান, সরকার খতিয়ে দেখবে যে তারা আদৌ মিয়ানমারে বাস করতো কি না এবং কোনও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল কি না। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে থাকা তালিকার সঙ্গে আমরা বাংলাদেশের দেওয়া তালিকা মিলিয়ে দেখবো যে আসলেই তারা মিয়ানমারের বাসিন্দা কি না। এরপর আমরা সেই লিস্ট তাদের পাঠাবো। এরপর দিনে ২০০-৩০০ জনকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করবো আমরা।’
গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৭ লাখ মানুষ। তারা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।








