পাকিস্তানে শিশু জয়নাবকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ইমরান আলিকে নিয়ে দেশটির টিভি উপস্থাপক ড. শহিদ মাসুদের করা অভিযোগগুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে যৌথ তদন্ত দল। বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন।
এই বছরের ৪ জানুয়ারি কোরআন ক্লাস থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার পর ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের কাসুর শহরের একটি আবর্জনার স্তুপ থেকে পাওয়া যায় শিশু জয়নাবের মৃতদেহ। ময়না তদন্তে হত্যা ও ধর্ষণের তথ্য নিশ্চিতের পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায় একই অপরাধী আগেও সাতটি শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত। গত ২৩ জানুয়ারি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন ইমরান আলী হলেন সেই অপরাধী। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইমরানের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ড ঘোষণা করা হয়। দণ্ড ঘোষণার আগে এক অনুষ্ঠানে মাসুদ দাবি করেছিলেন, ইমরান আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সদস্য এবং এর সঙ্গে পাঞ্জাবের এক মন্ত্রীও জড়িত আছেন। ইমরানের ৩৭টি ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট আছে। মাসুদের দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি যৌথ তদন্ত দল গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সেই তদন্ত দলটি সুপ্রিম কোর্টে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শহিদ মাসুদ তার অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। ইমরান আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে মাসুদ যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। ইমরানের নামে কোনও আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব থাকার পক্ষেও কোনও প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছে যৌথ তদন্ত দল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি দরিদ্র এবং তার নামে আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকার প্রমাণ নেই।’ ইমরান আলির পেছনে কোনও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের সমর্থন থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
ইমরানের ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট থাকার অভিযোগটি আগেই নাকচ করে দিয়েছিল স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান। পাঞ্জাব সরকার গঠিত প্রথম যৌথ তদন্ত দলটির কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে মাসুদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল ব্যাংকটি। ২৮ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি মিঞা নিসার ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) এর মহাপরিচালক বশির আহমেদের নেতৃত্বে নতুন একটি যৌথ দল গঠনের নির্দেশ দেন। শহিদ মাসুদকে ওই তদন্ত দলের সামনে তার অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রমাণ হাজির করতে বলা হয়। প্রধান বিচারপতি নিসার ১৮ জানুয়ারি শুনানি চলার সময় শহিদ মাসুদকে সতর্ক করে বলেছিলেন,‘অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন না; আমাদেরকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ দিন। আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা যদি সত্যি হয় তবে আপনাকে দেশের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে মেডেল দিব। আর যদি তা মিথ্যে হয় তবে কী হবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।’








