সংঘাতপ্রবণ কাশ্মিরে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র, জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের বাণী প্রচার করতে টিভি অনুষ্ঠান তৈরির কথা ভাবছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিনোদনের অনুষ্ঠানে শিক্ষামূলক তথ্য প্রচার করলে কাশ্মিরে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা যাবে বলে আশা করছে সরকার। এজন্য দূরদর্শন কাশ্মির টিভি চ্যানলে নাচ, গান ও কুইজের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, কাশ্মিরের জনগণের কাছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য প্রচারের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চায় সরকার। তাই বিনোদনমূলক টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই কাশ্মিরের জনগণের কাছে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি মৌলবাদবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেছেন, এসব অনুষ্ঠানের মধ্যে থাকবে নাচ ও গানের প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান। এমনকি দর্শকদের জন্য ‘কউন বানেগা ক্রোড়পতির’ মতো একটি অনুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে বিনোদনের জন্য হলেও এতে কাশ্মিরের দর্শকরা ভারতের বৈচিত্রময় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানগুলো ভারতের গণতান্ত্রিক চেতনা, জাতীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা ও দেশপ্রেমকে উপজীব্য করে বানানো হবে। এছাড়া এসব অনুষ্ঠানে মৌলবাদের কুফলও প্রচার করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘প্রস্তাবগুলো এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। কোনও কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে এসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা গেলে তা সমাজের জন্য ভালো ফল বয়ে আনতে পারে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রচারণা ছাড়াও দূরদর্শনের জন্য অনুষ্ঠানগুলো বাড়তি জনপ্রিয়তা নিয়ে আসবে। ইতোমধ্যেই চ্যানেলটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে নতুন নতুন চলচ্চিত্র দেখানোর মাধ্যমে। আমরা আশা করছি, প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানগুলো সম্প্রচার শুরু হলে তা শুধু দূরদর্শনের জনপ্রিয়তাই বাড়াবে না বরং কাশ্মীরে শান্তি স্থাপনেও কাজে আসবে’।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব জিকে পিল্লাই বলেছেন, ‘সমস্যাগুলোর একটি হলো টিভি চ্যানেলটির সীমিত দর্শক সংখ্যা। কিন্তু সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে, অনুষ্ঠানে যা দেখানো হবে তার সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের কাজের মিল থাকা। টিভিতে উন্নয়নের কথা বললেও মানুষ যদি দেখে বাস্তবে অন্য কিছু হচ্ছে তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটাই মাঠে মারা যাবে।’
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অজয় সাহনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের ধারণা প্রচার করা দূরদর্শনেরই কাজ ছিল। যদিও তারা তা কাশ্মিরে করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার মতে, এমন অনুষ্ঠান ‘কাশ্মির উপত্যকায়’ ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা প্রচারে কাজে আসতে পারে।








