জয়নাবের হত্যাকারী সম্পর্কে ‘ভিত্তিহীন’ কথা বলার জন্য পাকিস্তানের টিভি উপস্থাপক ড. শহিদ মাসুদের মৌখিক ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করেনি আদালত। বুধবার (৭ মার্চ) পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি মিঞা সাকিব নিসার তাকে বলেছেন, ক্ষমা চাইতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে শহিদ মাসুদের কাছ থেকে লিখিত জবাব চেয়েছেন তিনি। আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই বছরের ৪ জানুয়ারি কোরআন ক্লাস থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়ার পর ৯ জানুয়ারি পাকিস্তানের কাসুর শহরের একটি আবর্জনার স্তুপ থেকে পাওয়া যায় শিশু জয়নাবের মৃতদেহ। ময়না তদন্তে হত্যা ও ধর্ষণের তথ্য নিশ্চিতের পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায় একই অপরাধী আগেও সাতটি শিশু ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত। গত ২৩ জানুয়ারি পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন ইমরান আলী হলেন সেই অপরাধী। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ইমরানের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ড ঘোষণা করা হয়। দণ্ড ঘোষণার আগে এক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক মাসুদ দাবি করেছিলেন, ইমরান আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সদস্য এবং এর সঙ্গে পাঞ্জাবের এক মন্ত্রীও জড়িত আছেন। ইমরানের ৩৭টি ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট আছে। মাসুদের দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি যৌথ তদন্ত দল গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলেও তাকে সতর্ক করে আদালত। ১ মার্চ সেই তদন্ত দলটি সুপ্রিম কোর্টে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় এবং দাবি করে মাসুদের ১৮টি অভিযোগের সবগুলোই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার (৭ মার্চ) আদালতের মুখোমুখি হন শহিদ মাসুদ। আইনজীবী আদালতকে জানান আদালত যা বলবে তাই করতে প্রস্তুত রয়েছেন তার মক্কেল। এরপর নিউজ ওয়ান টিভি চ্যানেলের উপস্থাপক মাসুদ মৌখিকভাবে দুইবার আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। কিন্তু তার ক্ষমার আবেদন মঞ্জুর করতে অস্বীকৃতি জানায় আদালত। বিচারপতি নিসার উপস্থাপক শহিদ মাসুদকে তার আগের বক্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, অভিযোগগুলো ভুল প্রমাণ হলে আপনাকে ফাঁসিতে ঝোলানো উচিত। কিছু কিছু মানুষ আপনাকে রাহোরে আগের শুনানিতে ক্ষমা প্রার্থনার করার পরামর্শ দিয়েছিল। ক্ষমা প্রার্থনার সময় শেষ হয়ে গেছে।’ প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এ মামলায় ন্যায়চিার প্রতিষ্ঠা করা হবে। মাসুদের কাছ থেকে লিখিত জবাবও চেয়েছেন তিনি।
১ মার্চ যৌথ তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, শহিদ মাসুদ তার অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। ইমরান আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে মাসুদ যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। ইমরানের নামে কোনও আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব থাকার পক্ষেও কোনও প্রমাণ নেই বলে দাবি করেছে যৌথ তদন্ত দল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি দরিদ্র এবং তার নামে আন্তর্জাতিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকার প্রমাণ নেই।’ ইমরান আলির পেছনে কোনও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের সমর্থন থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
প্রধান বিচারপতি নিসার ১৮ জানুয়ারি শুনানি চলার সময় শহিদ মাসুদকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলবেন না; আমাদেরকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রমাণ দিন। আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা যদি সত্যি হয় তবে আপনাকে দেশের শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে মেডেল দিব। আর যদি তা মিথ্যে হয় তবে কী হবে তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।’








